স্বপ্নপূরণের ম্যাচে দুরন্ত রাজগঞ্জের মনোজ

‘ইস্টবেঙ্গল-নেরোকা ম্যাচের টিমলিস্টে এই ছেলেটা কে? মনোজ মহম্মদ?’ ‘মনোজ কোন দল থেকে এসেছে? কোন পজিশনে খেলে?’ ‘প্রথম ম্যাচেই মনোজকে খেলানোটা ঝুঁকি হয়ে গেল না?’

শনিবার দুপুরে ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ শুরুর আগে এরকম বহু প্রশ্ন ঘুরছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ম্যাচের আগে একটা বড় সংখ্যক ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের কাছে মনোজ মহম্মদ ছিলেন একদমই অপরিচিত একটি নাম। আর ম্যাচের পর? আনকোড়া, অপরিচিত ছেলেটার প্রশংসা সবার মুখে মুখে। এই বছর থেকেই ইস্টবেঙ্গল দিবসের অনুষ্ঠানে সেরা যুব ফুটবলারকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। প্রথম বছরই পুরস্কারটি পেয়েছেন মনোজ। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা মনোজের। তাঁর বাবার একটি ছোট মণিহারির দোকান ছিল। ছোটবেলায় মনোজও সেই দোকানে বসতেন। ২০১৬ সালে মনোজের বাবা মারা যাওয়ায় পর তাঁর মা দোকান সামলাতেন।

২০১০ সালে রাজগঞ্জ আকাদেমিতে যোগ দেন মনোজ। সেখান থেকে কলকাতায় ইস্টবেঙ্গল আকাদেমিতে। সিনিয়র দলে এবারই এসেছেন। মালয়েশিয়া শিবিরে মনোজকে বেশ মনে ধরেছিল ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেজান্দ্রোর। শনিবার সকাল সাড়ে নটায় মনোজকে জানানো হয়, তিনি আছেন প্রথম একাদশে। কিন্তু স্টপারে খেলে অভ্যস্ত মনোজকে খেলতে হবে লেফট ব্যাকে। আই লিগের প্রথম ম্যাচ। কঠিন পরিবেশে সিনিয়র দলে সুযোগ প্রথম থেকে খেলার। তাও অনভ্যস্ত পজিশনে? চাপ কি ছিল? মনোজ বলছেন, ‘আমিও আগেও লেফট ব্যাক খেলেছি। সিনিয়র দলের হয়ে খেলব এটাই তো স্বপ্নপূরণ। একটাই কথা মাথায় ছিল। নিজের সেরাটা দিতে হবে।’ ২২ মিনিটে গোললাইন সেভ দেন মনোজ। গোটা ম্যাচে একবারের জন্য কোনও ভুল করেননি। তাঁকে কাটিয়ে বিপক্ষকে বক্সে ঢুকতে দেননি রাজগঞ্জের এই যুব ফুটবলার। ‘খুব ভালো লাগছে সিনিয়র দলের হয়ে খেলতে পেরে। ম্যাচের পর কোচের সঙ্গে কথাও হয়েছে। তিনিও খুশি। তবে আমাকে আরও ভালো খেলতে হবে। বাড়িতেও ফোন করেছিলাম। আমার দিদি বলল, ভাই আমরা সবাই খেলা দেখেছি। তুই খুব ভালো খেলেছিস।’

তবে মনোজের মন খারাপ। তাঁর মা অসুস্থ। যখন খেলা চলছে, তিনি গিয়েছিলেন চিকিৎসকের কাছে। রাজগঞ্জ বাজারের কাছে ধরপাড়ার বাড়িতে ভাইয়ের খেলা দেখে আপ্লুত মনোজের দিদি। ‘ভাই কাল রাতে ফোন করে বলেছিল, দিদি কাল খেলা আছে আমাদের। ভাইকে টিভিতে খেলতে দেখে কি ভালো লাগল। এতো কষ্ট করে বড় হয়েছে ও। আমি, মা সবাই স্বপ্ন দেখি ভাই একদিন বড় ফুটবলার হবে। আমাদের কষ্টের দিন শেষ হবে’ রাজগঞ্জ থেকে ফোনে জানালেন মনোজের দিদি জ্যোৎস্না খাতুন। আকাদেমি দলের কোচ রঞ্জন চৌধুরি জানালেন, ‘আমি সবার আগে কোচকে ধন্যবাদ দেবো ওকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। মনোজ আমার খুব প্রিয় ফুটবলার। ও দ্রুত উন্নতি করেছে। ওর খেলা উত্তরবঙ্গের ফুটবলারদের আরও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করবে।’

Post a Comment

0 Comments