ট্রাম্পের মোবাইলে আড়ি পাতছে চিন-রাশিয়া!

ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মোবাইলে আড়ি পাতছে চিন ও রাশিয়া। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছে মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যম। যা নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে আমেরিকার অন্দরে। অবশ্য সে জন্য স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টের দিকেই আঙুল উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কিন পত্রিকাটির দাবি, বন্ধু ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে গল্পগুজব, রসালো আলোচনা ও ব্যক্তিগত কথা বলার জন্য আইফোন ব্যবহার করেন ট্রাম্প। যা আদৌ নিরাপদ নয়। ট্রাম্পের উপদেষ্টারা এই বিষয়ে বারবার তাঁকে সতর্কও করেছেন। ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে করা ‘কল’-এ আড়ি পাতা হতে পারে বলে। কিন্তু একগুঁয়ে ট্রাম্প তাতে কানই দেননি। হোয়াইট হাউসের নিরাপদ ল্যান্ডলাইন অনেক বেশি ব্যবহার করলেও, নিজের মোবাইল ব্যবহার একেবারে বন্ধ করেননি তিনি। যার পরিণতি, রুশ ও চিনা গুপ্তচররা আড়ি পাততে শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মোবাইলে। হোয়াইট হাউসের আধিকারিকদের একটাই প্রার্থনা, বন্ধুদের সঙ্গে হালকা মুহূর্তে ট্রাম্প যেন কোনও গোপন কথা বলে না ফেলেন।


ট্রাম্পের মোবাইল আসক্তির কথা বারবারই জানা গিয়েছে তাঁর অতীত ও বর্তমান সঙ্গীদের কাছ থেকে। যদিও তাঁরা কেউই পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। তাঁদের বক্তব্য, ট্রাম্পকে তাঁরা বদনাম করতে চান না। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রেসিডেন্টের গা-ছাড়া মনোভাবে তাঁরা অত্যন্ত হতাশ। ‘চিনা গোয়েন্দারা নিয়মিত কথোপথন শুনে ট্রাম্পের ব্যবহার, মানসিকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছে। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময়, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য দিশা সম্পর্কে সেই অনুযায়ী ধারণা করে নিচ্ছে চিন। বিদেশি দূতাবাসের কর্মী ও তথ্য সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। চিন ও রাশিয়া নিয়মিত ট্রাম্পের ফোন কলে আড়ি পাতছে। কীভাবে তিনি কথা বলেন, কোন বিষয় পছন্দ, কী ধরনের যুক্তিতে তাঁকে কাবু করা যায়, কাদের কথা তিনি মেনে নেন। বিয়ে, লবি করা বা গুপ্তহত্যার ক্ষেত্রে যেমন তথ্য সংগ্রহ করা হয়, এটাও সেই ধরনের বিষয়। সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধে কাজ লাগাতে এই তথ্য চিন ব্যবহার করবে। প্রেসিডেন্ট কাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন, সেটাও তারা জেনে গিয়েছে। তাঁদের দিয়ে ট্রাম্পের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা মার্কিন গোয়েন্দাদের।

বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি হোয়াইট হাউস। তবে এক প্রাক্তন আধিকারিক বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের নরম মনোভাব রয়েছে। তাই রাশিয়া হয়তো এই বিষয়ে খুব একটা আগ্রাসী নয়। কিন্তু চিনের তরফে বিপদ মারাত্মক। ওই মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, কোনও সিনিয়র সহকর্মীকে ডেকে পাঠাতে হলে বা নির্দিষ্ট কাউকে ব্যক্তিগত ফোন করতে হলে ট্রাম্প সাধারণত মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। তিনি চান না, তাঁর ব্যক্তিগত ফোন হোয়াইট হাউসের পিবিএক্স থেকে আসা-যাওয়া করুক। বিশেষত ফক্স নিউজের সঞ্চালকদের কাছে নিজের ক্ষোভ জানাতে তিনি মোবাইল ফোনই ব্যবহার করেন।

যদিও এই প্রতিবেদনকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে চিনের বিদেশমন্ত্রক। চিনের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেন, “আমেরিকার বেশ কয়েকজন অস্কারে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জেতার কোনও সুযোগই হাতছাড়া করতে চাইছেন না।” তাঁর আরও কটাক্ষ, এই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তাদের বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর পরিবেশনের অভিযোগ আরও জোরালো হবে। এটা ওই  সংবাদমাধ্যমের বোঝা উচিত। আর ট্রাম্প প্রশাসন যদি অ্যাপল ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন থাকে, তাহলে হুয়াই ফোনকে ওদের দেশে ঢুকতে দিচ্ছে না কেন। উল্লেখ্য, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে হুয়াই ফোন সে দেশে নিষিদ্ধ করেছে আমেরিকা।

Post a Comment

0 Comments