জয় দিয়ে আই লিগ শুরু ইস্টবেঙ্গলের,মেক্সিকান ঢেউ তুললেন এনরিকে

কলকাতা লিগ হাতছাড়া হয়েছে। তবে আইলিগের শুরুর দিনেই ইস্টবেঙ্গল বুঝিয়ে দিল তারা এবার প্রস্তুত। অন্তত, ইস্টবেঙ্গলের ‘ওপেনিং ডে-র ওপেনিং শো’ একদম ব্লকব্লাস্টার। প্রথম ম্যাচের নায়ক এনরিকে এসকুয়েদা। মেক্সিকোর যুব দলের হয়ে একসময় খেলা তারকা ভারতে কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে সমস্ত সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে নেরোকার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে চিচারিতোর দেশের তারকা সদম্ভে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন খুয়ান লুম্পাক স্টেডিয়ামে।

ছোট ছোট টাচে বল পায়ে রেখে খেলা। আলেজান্দ্রো মেনেন্ডেজের ফুটবল বোধ খুব সহজ। সেই স্ট্র্যাটেজিতে পাহাড়ে প্রথম ম্যাচেই ‘সুপার হিট’ ইস্টবেঙ্গল। অন্তত, প্রথম ম্যাচ দেখে আশাবাদী হওয়াই যায়। আমনার চোট। তবু কাশিমকে বাদ দিয়ে তিন বিদেশি— জনি অ্যাকোস্টা, বোরহা এবং এনরিকেকে নিয়ে দল সাজিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ।

আর তিন বিদেশিই প্রথম ম্যাচে নজর কাড়লেন। কলকাতা লিগে দুঃস্বপ্নের হ্যাংওভার কাটিয়ে উঠেছেন জনি অ্যাকোস্টা। আর বোরহা বেশ ভাল। জনি-বোরহা সারাক্ষণ নির্ভরতা দিলেন। দু’ই বিদেশির পাশে এদিন সাইড ব্যাকেও চমক। রাইট ব্যাকে চুলোভা এবং মনোজ মহম্মদেরও বড় ম্যাচে আত্মপ্রকাশ ঘটল এদিন। প্রথম ম্যাচেই শিলিগুড়ির তরুণ নজর কাড়লেন। গোললাইন সেভও করলেন।

লড়াই ছিল অন্য মাঠেও। ইস্টবেঙ্গলের হেভিওয়েট স্প্যানিশ কোচকে ‘দেখিয়ে দেওয়ার ছিল’ নেরোকার স্প্যানিশ কোচ ম্যানুয়েল রেটামারোরও। স্প্যানিশ ডুয়েলে শুরুর থেকেই আক্রমণাত্মক রিংটোন সেট করে দিয়েছিলেন দুই দেশের ফুটবলাররা। তবে ১২ মিনিটেই গোল করে যান এনরিকে। থ্রো ইন থেকে গ্লেন উইলিয়ামসের মিস পাস চেস্ট ট্র্যাপ করে জালে বল জড়িয়ে যান এনরিকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল মেক্সিকোর তারকার।

ইস্টবেঙ্গলে প্রাক্তন হয়ে যাওয়া কাতসুমি ও এডুয়ার্ডোও পুরনো দলের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। কাতসুমি এর মধ্যে চোট পেয়ে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়েন। এডুও হালকা চোট পান দ্বিতীয়ার্ধে।

নেরোকার পরে শিলং লাজংয়ের বিরুদ্ধে পরের সপ্তাহেই খেলছে নামছে ইস্টবেঙ্গল। নতুন ইস্টবেঙ্গলের সামনে এবার নতুন লক্ষ্যও স্থির। পাহাড় থেকেই ৬ পয়েন্ট নিয়ে আসা। সেই লক্ষ্যে কতটা সফল হয় ইস্টবেঙ্গল, সেটাই আপাতত দেখার।

Post a Comment

0 Comments