সিবিআই দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ,গ্রেপ্তারি বরণ রাহুলের

ডিজিটাল ডেস্ক: সিবিআই-এর গৃহযুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে চাপে ফেলতে ময়দানে কংগ্রেস৷ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও৷ সভাপতি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সিবিআই-এর প্রধান দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে কংগ্রেস৷ ইতিমধ্যেই প্রতীকী গ্রেপ্তারি বরণ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ একই ভাবে প্রতীকী গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্যান্য কংগ্রেস নেতাদেরও৷ সকলকে লোধী রোড পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷

সূত্রের খবর, কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেয় তৃণমূল কংগ্রেসও৷ রাজ্যের শাসকদলের তরফ থেকে বিক্ষোভ যোগ দেন সাংসদ নাদিমুল হক৷ কেবল নয়াদিল্লিতেই নয়, কংগ্রেস সূত্রে খবর, দেশজুড়ে সিবিআই-এর সমস্ত দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের৷ শুক্রবার নির্ধারিত সময় সকাল এগারোটা নাগাদ নয়াদিল্লির লোধি রোড থেকে সিবিআই দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করে যান কংগ্রেস নেতারা৷ এরপর সিবিআই দপ্তরের সামনে শুরু হয় বিক্ষোভ কর্মসূচি৷ সূত্রের খবর, কর্মীদের সঙ্গে যোগ দেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা৷ অন্যান্য দলের তরফ থেকে ছিলেন সিপিআই নেতা ডি রাজা এবং জে়ডিইউ নেতা শরদ যাদব৷ কংগ্রেসের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় সমগ্র সিবিআই দপ্তর ও সামনের রাস্তা৷ মোতায়েন করা হয় আধা সামরিক বাহিনী ও প্রচুর পুলিশ৷ যাতে কোনও ভাবেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রাখে প্রশাসন৷ শুক্রবার সকালেই টুইট বার্তায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে এই বিক্ষোভ শামিল হওয়ার আহ্বা জানান কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ এইপরেই খবর আসে, বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ অন্যান্যরা৷

মধ্যরাতে সিবিআই ডিরেক্টর অলোক ভার্মাকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই এই বৃহস্পতিবারই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, রাফালে দুর্নীতির তদন্ত আটকাতেই সিবিআই ডিরেক্টরকে ছুটিতে পাঠিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার এবং একটা দুর্নীতি ঢাকতে আরও একটা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে কেন্দ্র। বাড়তে থাকা বিবাদের জেরে বুধবারই সিবিআই-এর ডিরেক্টর অলোক ভার্মা ও স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে ছুটিতে পাঠায় কেন্দ্র৷ ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা করা হয় এম নাগেশ্বর রাও-কে৷ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ছুটিতে যাওয়া সিবিআই ডিরেক্টর অলোক ভার্মা৷ শুক্রবারই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈইয়ের এজলাসে ওঠে তাঁর দায়ের করা মামলা৷ রায়ে, নাগেশ্বর রাওয়ের ক্ষমতা খর্ব করেছে শীর্ষ আদালত৷ বলা হয়ছে, রুটিন কাজ করলেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না ভারপ্রাপ্ত সিবিআই অধিকর্তা৷ পাশাপাশি, সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনকে সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত করে ২০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে৷

Post a Comment

0 Comments