বোনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ধামাচাপা দিতেই লাভ জেহাদের গল্প ফেঁদেছিল শম্ভুলাল

আফরাজুল হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করল রাজস্থান পুলিশ। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যার পিছনে লাভ জিহাদ নয়, রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ। রাজস্থান পুলিশ তাদের চার্জশিটে দাবি করেছে, অভিযুক্ত শম্ভুলাল ‌রেগার যে লাভ জেহাদের দাবি করছে তা আসলে গল্প। আসল ঘটনা হল নিজের অবৈধ সম্পর্কের কথা ধামাচাপা দিতেই সে লাভ জেহাদের গল্প ফাঁদে। গল্পের কেন্দ্রে শম্ভূলালের এক ‘হিন্দু বোন’।

পুলিশের দাবি, ওই ‘হিন্দু বোন’-এর সঙ্গেই শম্ভুলালের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ওই মহিলা শম্ভুলালের খপ্পর থেকে নিজেকে বাঁচাতে বাল্লু সেখ নামে আফরাজুলের গ্রামেরই এক ‌যুবকের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। তাকে ফিরিয়ে আনতে শম্ভুলালও পশ্চিমবঙ্গে আসে। কিন্তু ওই মহিলা প্রথমে ফিরতে অস্বীকার করলেও পরে চাপের মুখে সে ফিরে ‌যায়। কিছুদিন পরে সে বাল্লু শেখের এক বন্ধুর সাহায্যে ফের পালিয়ে যায়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শম্ভুলাল।

এদিকে আফরাজুল বাংলার শ্রমিকদের রাজস্থানে নিয়ে গিয়ে কাজ দিত আর এই বাল্লু শেখ ছিল তারই গ্ৰামের। তাই শম্ভুলালের রাগ গিয়ে পড়ে আফরাজুলের উপরে। তার পরই সে আফরাজুলকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর দেহ জ্বালিয়ে দেয়। রাজসমন্দের পুলিশ সুপার মনোজ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন আগামী ১৭ জানুয়ারি আদালতে ওই মামলার শুনানি শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর রাজস্থানের রাজসমন্দ জেলায় শম্ভুলাল রেগার নামের এক ব্যক্তি নির্মমভাবে খুন করে আফরাজুলকে। কুঠার দিয়ে কোপানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে আফরাজুলের দেহ জ্বালিয়ে দেয় শম্ভুলাল রেগার। ক্যামেরাবন্দি করা সেই দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। কিন্তু ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরাতে শম্ভুলাল একটি ভিডিওতে দাবি করেছিল, সে নাকি লাভ জিহাদ থেকে তার এক ‘হিন্দু বোন’কে বাঁচাতেই ওই কাণ্ড করেছে।

Post a Comment

0 Comments