প্রায় ৫০,০০০ মেহনতি মানুষের জনজোয়ার এগিয়ে আসছে তিলোত্তমাকে ভাসাতে

আজ ফের বালিঘাট থেকে শুরু হলো কৃষকদের পদযাত্রা। বালিঘাট থেকে বেলুড়, লিলুয়া, ঘুশুড়ি, সালকিয়া, হাওড়া হয়ে কলকাতায় ঢুকবে জনস্রোত। মিছিলের গন্তব্য কলকাতার রাজভবন। রাজভবনে রাজ্যপালের কাছে তাঁদের দাবিসনদ পেশ করবেন। আনুমানিক, প্রায় ৫০,০০০ মেহনতি মানুষের জমায়েত হতে পারে আজকের সমাবেশে।
কাজ চেয়ে, শিল্পের দাবি নিয়ে রাজভবনের পথে বুধবার সিঙ্গুর কিষাণ  মার্চ শুরু করেছেন বাংলার কৃষক, খেতমজুররা। সিঙ্গুরের রতনপুর থেকে কৃষকের এই পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন সারা ভারত কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা।


আমাদের শিল্প চাই, বলছেন সঙ্কটের আবর্তে বেঁচে থাকা কৃষকও। ২৫হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছেন কৃষক। দাম নেই ধানের। মার্চ মাসের মধ্যে শোধ করতে হবে ধানের কর্জ। তবু সেই ঋণগ্রস্থ কৃষকও সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছেন শিল্পের হয়ে। কেন চাইছেন শিল্প? ১০বিঘা জমি। পাঁচ ভাই আমরা। ভাগে কী পড়বে? আমাদের ছেলেপুলে আছে, ভাইপোরা বড় হচ্ছে। জমি তো আর বড় হচ্ছে না। তারা লেখাপড়া শিখছে। তাই আমাদের শিল্প দরকার। কৃষিকে রক্ষা করে আমাদের শিল্পই চাই। জানাচ্ছেন কৃষক।

সিঙ্গুরের জমিতে শিল্প চেয়ে, গোটা রাজ্যে কাজ চেয়ে বুধবার বেলা ১১টায় হান্নান মোল্লা শুরু করেছেন সিঙ্গুর কিষাণ মার্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। হাজারে, হাজারে কৃষক, খেতমজুর হাঁটতে শুরু করেছেন রাজভবনের পথে। মিছিলে পা মিলিয়েছেন হান্নান মোল্লা, অমল হালদার, অমিয় পাত্র, তুষার ঘোষ, নৃপেন চৌধুরি। শুরুর মিছিলে ছিলেন সি আই টি ইউ-র পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সভাপতি সুভাষ মুখার্জি।

৩কিমি পথ হাঁটার পর খানিক বিশ্রাম। তারপর দুপুর ৩টা থেকে আবার পথ। বড়া থেকে ডানকুনি যাওয়ার মাঝে কিষাণ মার্চে যোগ দিলেন সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র, পার্টিনেতা শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, দীপক দাশগুপ্ত, রবীন দেব, অনাদি সাহু।
দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে সিঙ্গুর কিষাণ মার্চ এগিয়েছে রাজভবনের পথে। রায়নার সঙ্গে পথ হেঁটেছে সন্দেশখালি। তাজমূল হকের সঙ্গী হয়েছেন সুভাষ দাস।
বুধবার রাতে হাওড়ায় রাত কাটান পদযাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবার হাঁটা শুরু হয়েছে। এবার রাজভবনের সামনে এসে থামা।
আজ কলকাতা দখল নিতে আসছেন বাংলার কৃষকরা।

Post a Comment

0 Comments