অযোধ্যায় গতকাল ঠিক কতজন মানুষ হয়েছিল? হিন্দু ও ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমের ভুল প্রচার, আরো পড়ুন

 আপনাদের মনে আছে কি ‘কোবরা পোস্ট’ মাস দুয়েক আগে ভারতীয় মিডিয়ার উপরে স্ট্রিং অপারেশন করেছিল! তখনই সমস্ত তথ্য খুলে সামনে এসেছিল যে, লোকসভা নির্বাচন এলেই হিন্দি আর ইংরেজী মিডিয়া হিন্দু-মুসলিম মোদ্দা বানিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়বে। অযোধ্যায় শিবসেনা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরঙ দল এবং সঙ্ঘের আয়োজিত ধর্মসভায় কিছু রাজনৈতিক পার্টি এবং কিছু সাংস্কৃতিক তথা ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে একত্রিত দেখাতে মিডিয়া যেভাবে কভারেজ করলো সেটা কোবরা পোস্টের স্ট্রিং অপারেশনকে সত্য সাব্যস্ত করছে। স্ট্রিং অপারেশনে কোবরা পোস্টের গুপ্তচর সাংবাদিক সমস্ত বড়ো বড়ো মিডিয়ার উচ্চ উচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তিদের ক্যামেরার সামনে হিন্দু-মুসলিম মোদ্দা চালানোর জন্য টাকার অফার দিয়েছিলেন, যা স্বীকার করে ঐ সমস্ত ব্যক্তিরা বলেছিলেন- এই কাজ তো তারা অনেক বছর ধরেই করে চলেছেন, আগে আরোও বেশী করবেন।



অযোধ্যায় কুড়ি-ত্রিশ হাজার মানুষের ভীড়কে পাঁচ-ছয় লক্ষ মানুষের ভীড় বলে প্রচারিত ও প্রসারিত করা হলো। মহারাষ্ট্র থেকে শিবসেনাদের জন্য দুটি স্পেশাল ট্রেন চালানো হলো। এই দুটি ট্রেণ শিবসেনা মহারাষ্ট্র থেকে অগ্রিম বুকিং করে ছিল। প্রতি ট্রেনে যদি দুই হাজার শিবসেনা সদস্য উঠেছিলেন ধরে নেওয়া হয় তবে দুটি ট্রেনে চার হাজার শিবসেনা সদস্য এসেছিলেন। আর একটু যদি বাড়িয়ে দেই তবে ছয় হাজার। কিন্তু জি নিউজ, আজ তক, এ বি পি নিউজ, নিউজ 18, ইন্ডিয়া টিভি, ইন্ডিয়া নিউজ, জি হিন্দুস্তান, রিপাবলিক, হেডলাইনস টুডে, দৈনিক জাগরণ, হিন্দুস্তান, অমর উজালা এরা অযোধ্যায় লক্ষ লক্ষ টিকি যুক্ত নেড়া মুন্ডু দেখতে পেয়ে গেলেন! কেউ দুই লক্ষ কেউ বা পাঁচ লক্ষ মানুষের জমায়েত দেখিয়ে দিলেন। হিন্দি সংবাদপত্র গুলোতো আজ অযোধ্যার কভারেজে শুধু দুই পৃষ্ঠা ভর্তি করে দিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদ ছেড়ে যদি বাকি জেলাগুলোর সংবাদ হলো, সেই সমস্ত জেলার বজরঙ দল, সঙ্ঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য ছাড়া কোনোও সাধারণ স্থানীয় হিন্দু মানুষরা একটুও বেরোননি, এই বিষয়ে একটুও রুচি দেখাননি। প্রতিটি এলাকা থেকে আট থেকে দশ জনের দল ঝান্ডা, ব্যানার নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে শ্লোগান দিতে দিতে একশো মিটার এগিয়ে গিয়ে পুনরায় বাড়ি ফিরে চলে এলেন। সাধারণত আন্দোলন রাস্তায় নজরে পড়ে কিন্তু গতকালের আন্দোলন টেলিভিশনে নজরে এলো। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এক সপ্তাহ পূর্ব থেকেই দেশের নিঃশ্বাস আটকে দিয়েছিল। মানুষেরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকলেন, আশঙ্কার প্রহর গুনতে থাকলেন। অযোধ্যা থেকে জনৈক স্থানীয় সাংবাদিক বললেন- অযোধ্যায় গতকালের জমায়েতে সাধু-সন্তদের লিফলেট বন্টন করা হয়েছে। কাউকে ₹501/- টাকা দেওয়া হয়েছে তো আবার কাউকে ₹5001/- টাকা দেওয়া হয়েছে। পুরি-সব্জির প্যাকেট বন্টন করা হয়েছে।


বাবরি মসজিদ শহীদ করে দেওয়ার পরে সারা বিশ্বে ভারতের সমালোচনা হয়েছিল। তারপর অনেক কষ্ট করে ভারত পুনরায় বিশ্বে ধার্মিক ন্যায় প্রিয় দেশ বলে নিজের ছবি তৈরী করেছে। অযোধ্যায় ভীড় জড়ো করে যদি মন্দির নির্মাণ করা সম্ভব হতো তবে 1992 সালের পরে যেকোনো দিন এটা হতে পারতো। কিন্তু এটা অসম্ভব। সারা বিশ্ব যখন প্রশ্ন তুলবে সব কিছু থাকা সত্ত্বেও ভীড় এতো গম্ভীর মোদ্দায় আছড়ে পড়লো কিভাবে? এর উত্তর বিজেপিকে দিতে হতো আর কংগ্রেসকেও দিতে হতো। বিবাদিত স্থানে কোনোও প্রকারের গুন্ডামি থেকে ব্যুরোক্রেশী এবং জুডিশিয়ারি শাখা প্রশাখা ও সারা জীবনের জন্য ভেঙ্গে পড়বে। এটা এখন শুধুমাত্র অযোধ্যার একটি ছোট জমির মামলা নেই, এটি এখন বিশ্বের দরবারে ভারতের সামাজিক, আর্থিক, গণতান্ত্রিক মূল্যের পরীক্ষা ও বটে। বহুসংখ্যক অতিবাদীদের দাপটে যদি অযোধ্যা চলে যায় তবে ভারত থেকে গণতন্ত্র ও মুছে যাবে।

রাজনীতির দড়ি টানাটানি হতেই থাকবে। নরেন্দ্র মোদীর শাসনকাল থেকে জনগণের মোহভঙ্গ হয়ে গেছে। জনগণ আবার নতুন কাউকে সুযোগ দিতে চাইছে। অযোধ্যার ধর্মসভা মহারাষ্ট্রে শিবসেনার জন্য হয়তো ‘রাম বাণ’ সাব্যস্ত হতে পারে, কিন্তু আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ‘সঞ্জীবনী’ সাব্যস্ত হবে এটা অসম্ভব।

আর এইভাবে গতকাল অযোধ্যায় শিবসেনা আর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ যে ধর্মসভার আয়োজন করেছিল সেটা ফুসস হয়ে গেছে। শিবসেনা প্রধান ‘উদ্ভব ঠাকরে’ গুটিকয়েক সমর্থক দেখে সেখান থেকে পলায়ন করাই শ্রেয় মনে করে ফুস হয়ে গেলেন। আর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কয়েক হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো সভাটাই ফুসস হয়ে গেল।


মৌলানা মহম্মদ মদনী যে বক্তব্য দিয়েছিলেন সেটা খুবই চিন্তা ভাবনা করে দিয়েছিলেন। যে বক্তব্য কিছু মানুষ বুঝতে না পেরে উল্টো পাল্টা মন্তব্য করতে শুরু করে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন- “সঙ্ঘকে যদি নিশ্চিহ্ন করতে চান তবে মুসলিমদের উচিত ওয়ামন মেশ্রাম, চন্দ্রশেখর রাভণ, জিগ্নেস মেবানী, তেজস্বী যাদব, হার্দিক প্যাটেল, অল্পেশ ঠাকুর -এদের সভায় শুধু ভীড় হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে যান।

সঙ্ঘ স্বয়ং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”

Post a Comment

0 Comments