রাজ্যে বড় রকম মদ কেলেঙ্কারি, ১৬ কর্তাকে সাসপেন্ড করলো নবান্ন

এখন রাজ্যে সাড়ে চার হাজার বেসরকারি মদের দোকান রয়েছে। সেখানে পাইকারি মদ সরবরাহ করে রাজ্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে।

এক সঙ্কটের মধ্যেই আর এক সঙ্কট। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ, মেয়র পদ ছাড়া এসবের মধ্যেই সামনে এল বড় কেলেঙ্কারি। নতুন চাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। সরকারি মদ বিপণনে অফিসারদের কমিশন নেওয়ার অভিযোগে একসঙ্গে আবগারি দফতরের ১৬ কর্তাকে নবান্ন সাসপেন্ড করেছে বলে খবর।



ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার দেশি ও বিলাতি মদের ডিস্ট্রিবিউশন নিজের হাতে নিয়েছে। শহরের পরে লক্ষ্য গ্রামীণ মদের বাজার। রাজ্য সরকারের নিগম ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজ কর্পোরেশন (বেভকো) ঠিক করেছে, প্রথম পর্বে ২০০০ মদের দোকানের মধ্যে বেশিটাই হবে গ্রামীণ এলাকায়।

এখন রাজ্যে সাড়ে চার হাজার বেসরকারি মদের দোকান রয়েছে। সেখানে পাইকারি মদ সরবরাহ করে রাজ্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। গ্রামাঞ্চলে আরও হাজার দু’য়েক দোকান খোলা হলে সরকারের তহবিলে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব জমা হতে পারে বলে হিসেব। কিন্তু সেই পরিষেবা শুরু হতে না হতেই বড় কেলেঙ্কারি সামনে এল।

এক দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী পুরুলিয়া জেলার মদ ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আর তদন্তের স্বার্থে একযোগে জেলার ১৬ আবগারি কর্তাকে সাসপেন্ড করেছে নবান্ন। ওই কর্তাদের মধ্যে জেলার আবগারি সুপারিনটেন্ডন্ট থেকে সাব ইন্সপেক্টর, কনস্টেবল পদের কর্মী রয়েছেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের আবগারি দফতরের কমিশনার রণধীর কুমার এই অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। শুরুও হয়ে গিয়েছে বিভাগীয় তদন্ত।

জেলার মদ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি নিগম থেকে মদ কিনতে গেলে কাটমানি দিতে হচ্ছে কর্তাদের। বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসারদের জন্য বোতল পিছু ঘুষ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সেটা দিতে গিয়ে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১২ লাখ টাকা দিতে হচ্ছে। এই অভিযোগের পরেই পদক্ষেপ করল নবান্ন।

Post a Comment

0 Comments