তুরস্ক মুসলিম উম্মাহর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবে: ইয়েমেনী ইতিহাসবিদ

জা’ফার আস-সাকাফ ইয়ামেনী বংশোদ্ভূত একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক। তিনি আরব সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। তুরস্কের পুনর্জাগরণ এবং আধুনিক শিল্প তাকে বিস্ময়কর ভাবে মুগ্ধ করেছে। তার ভাষায়, আমি জীবনের শেষ লগ্নে এসে আমার জীবনের সেরা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। তুরস্ক ভ্রমণ তার কাছে শততম জন্মবার্ষিকীর উপহার বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন তুরস্ক ভ্রমণকালে আমি জীবনের সেরা সময়কে অতি বাহিত করছি।


বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েননি ইয়ামেনী ঐতিহাসিক, তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্ব মানচিত্রের প্রায় সমগ্র অঞ্চলে। চার যুগেরও বেশি সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট কিভাবে পাল্টেছে, বিভিন্ন বংশের উত্থান পতনের সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছেন জা’ফার আস সাকাফ। যিনি ১৯১৮ সালে ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা হাদরামৌত জেলার সাওউন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে একেক করে তিনি দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেন।

পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত, ভ্রমণ পিপাসু এই মানুষটি পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগী। তার রয়েছে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি। যাতে মজুদ রয়েছে ২০ হাজারের বেশি দেশি ও বিদেশি পুস্তক সম্ভার। ২০১১ সালে তুরস্ক ভ্রমণ করে ইউরোপের এই দেশটির সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। সেবার তিনি এখানের কয়েকটি শহর ঘুরে দেখেন এবং দর্শনীয় কিছু স্থানে যান পর্যটনের উদ্দেশ্যে। তিনি অভিভূত হন তুর্কি-পুনর্জাগরণ ও আধুনিক শিল্পের উন্নতি ও অগ্রগতি দেখে। তিনি বলেন দেশটি এখন টার্নিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগানের হাত ধরে এগিয়ে গেলে দেশটির ভাল হবে। আর যদি তা না হয় তাহলে বিরোধীদের হাতে সব শেষ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন তুরস্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্ভর করছে এরদোগানের পরামর্শ দাতাদের সঠিক পরামর্শের উপর। আরব দেশগুলির সাথে পারস্পরিক মেলবন্ধন সুন্দর করার জন্য তুরস্কের সাফল্য প্রয়োজন। আরব সহ মুসলিম বিশ্বকে পথ দেখাবে তুরস্ক।

তিনি বলেন, আরব দেশসমূহ নিয়ে আমাদের যে স্বপ্ন ও আশা ছিলো তা ক্রমশ নিভে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের মত মুসলিম রাষ্ট্রগুলো মুসলিম উম্মাহর স্বপ্ন পূরণ করার শক্তি রাখে। আমরা আশা করি এদের যে কেউ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর গৌরবময় হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে তুরস্কের প্রতি সকলের বেশি আকাঙ্খা রয়েছে। অনেকেই চায় মুহাম্মদ আল ফাতিহের যুগ তুরস্ক ফিরিয়ে আনুক। শুধু তুরস্কে নয় তুর্কিস্থান সহ সারা পৃথিবীতে উসমানী খেলাফতের সময়ের সোনালি দিনগুলোর পুনর্জন্ম হোক এটাই মুসলিম দুনিয়ার মানুষের কামনা এখন। যুগের বিবর্তন ও আদর্শ সমাজ নির্মাণে যুবকদের বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। সবশেষে যুব সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার প্রতি বেশি মনোযোগী হতে। শিল্পে উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ সাধনা করার কথা বলেন তিনি। কারণ পৃথিবীকে সম্পদশালী করার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে যদি আধুনিক শিল্পের সুষম ব্যবহার করা যায়। তিনি শতায়ু হয়েছেন। জীবন সায়াহ্নে আল্লাহর নিকট তার কামনা তিনি যেন মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ দাস হয়ে তার দরবারে হাজিরা দিতে পারেন। তিনি তার ছাত্রদের প্রতি এই নসিহত করেছেন যাতে সর্বক্ষেত্রে তারাও আল্লাহর ইবাদত করতে পারে।

Post a Comment

0 Comments