গ্রাহকের জন্য চাই ফোর-জি,এর জন্য অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটে বি এস এন এল কর্মীরা

গ্রাহকের জন্য চাই ফোর-জি স্পেকট্রাম।

এর সঙ্গেই আরও কয়েকটি জরুরি দাবিতে দেশজোড়া অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটে যাচ্ছেন বি এস এন এল কর্মীরা। শুরু ডিসেম্বরের তিন তারিখ, সোমবার থেকে। বি এস এন এলের সমস্ত ইউনিয়ন এবং অ্যাসোসিয়েশনের মঞ্চ এ ইউ এ বি এই লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

এয়ারটেল, ভোডাফোন, আইডিয়া থেকে মুকেশ আম্বানির জিও। বেসরকারি সবকটি সংস্থার হাতে ফোর-জি স্পেকট্রাম। নেই শুধু সরকারি বি এস এন এলের কাছে। তবু এয়ারটেল, ভোডাফোন, আইডিয়ার মতো সংস্থাগুলি যখন বিপুল লোকসান করছে, তখন অপারেটিং মুনাফা বাড়িয়ে চলেছে বি এস এন এল। ফোর-জি প্রযুক্তি ছাড়াই, টু-জি আর থ্রি-জি’কে সম্বল করে সংস্থার গ্রাহক বৃদ্ধির হার তিনটি সংস্থার চেয়ে বেশি।
বি এস এন এলের তাবৎ কর্মী অফিসারদের দাবি তাই গ্রাহক স্বার্থে চাই ফোর-জি স্পেকট্রাম। সেইসঙ্গেই, সংস্থার তরফে পেনশনের অংশ দেওয়া সংক্রান্ত সরকারি আইনের রূপায়ণ। গত বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে কর্মী ও অবসর নেওয়া কর্মীদের বেতন ও পেনশনের সংশোধন। বুধবার এ ইউ এ বি জানিয়েছে, মোদী সরকার তার নিজের আইনই লঙ্ঘন করে চলেছে। পেনশন কনট্রিবিশনের নামে প্রতি বছর লুট করে চলেছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। যার গুরুতর বিরূপ প্রভাব পড়ছে সংস্থার আর্থিক ব্যবস্থায়।

গত বছরও দুবার ধর্মঘট করেছেন বি এস এন এল কর্মীরা। চাপের মুখে, যোগাযোগ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী এই ফেব্রুয়ারিতে এ ইউ এ বি নেতৃবৃন্দকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সমস্ত দাবিপূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসের দীর্ঘ আটমাস পেরিয়ে যাওয়ার পর শেষে, নভেম্বরের ৬ তারিখ, বি এস এন এল কর্তৃপক্ষ টেলিযোগাযোগ দপ্তরকে লেখা এক চিঠিতে এই গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি সটান খারিজ করে দেয়। সময় নেয়নি এ ইউ বি এ। নভেম্বরেই দেশজুড়ে রাস্তায় নামেন বি এস এন এল কর্মীরা। এবার অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটে।

দুবছর আগে সেপ্টেম্বরে, ‘লুটেরা গ্রাহকমূল্য’ নিয়ে রিলায়েন্স জিও বাজারে আসার পর থেকেই গোটা টেলিকম শিল্পে সংকটের শুরু। এয়ারটেল, ভোডাফোন, আইডিয়ার মতো দাপুটে বেসরকারি সংস্থাগুলি সব লোকসানে চলছে। একচেটিয়া কারবারের জন্য সস্তা দর হেঁকে গোটা বাজার থেকে বাকিদের হটিয়ে দিতে চাইছে। ইতিমধ্যেই টেলিকম সংস্থাগুলির মোট ঋণের বহর দাঁড়িয়েছে ৮ লক্ষ কোটি টাকা। ভোডাফোন এরমধ্যেই মিশেছে আইডিয়ার সঙ্গে। ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে হয়েছে এয়ারসেল, টাটা টেলিসার্ভিসেস, অনিল আম্বানির রিলায়েন্স ইনফোকমের মতো ছোট সংস্থাকে।
অন্যদিকে, ২০১১-’১২তে যেখানে বি এস এন এলের লোকসানের পরিমাণ ছিল ৮,৮০০ কোটি টাকার বেশি, সেখানে সংস্থার কর্মী ও কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সময়ে ধাপে ধাপে বেড়েছে অপারেটিং মুনাফা। ২০১৪-’১৫তে যেখানে ছিল ৬৭২.৫৭ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৫-’১৬তে বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৮৫৪.৪৮ কোটি টাকা। এমনকি, রিলায়েন্স জিও ঢোকার পরেও, ২০১৬’র সেপ্টেম্বরেই ২০১৬-’১৭ আর্থিক বছরে সংস্থার অপারেটিং মুনাফা ছিল ১,৬৮৪ কোটি টাকা।

শুধু তাই নয়। এই সময়ে বেসরকারি সংস্থার চেয়ে বেড়েছে গ্রাহক সংখ্যা। যেমন ২০১৭-তে, এয়ারটেলের গ্রাহক বৃদ্ধির হার যেখানে ছিল ৯.১৩ শতাংশ, ভোডাফোনের ৩.৮৩ শতাংশ, আইডিয়ার ৩.১৪ শতাংশ, সেখানে বি এস এন এলের ছিল ১১.৫ শতাংশ। ফোর-জি প্রযুক্তি ছাড়াই, টু-জি আর থ্রি-জি’কে সম্বল করে এই সাফল্য। 

Post a Comment

0 Comments