রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত তহবিলের ভাগ নিয়ে এই সপ্তাহেই কমিটি

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত তহবিলের ভাগ নিয়ে চলতি সপ্তাহেই নিয়োগ করা হবে বিশেষজ্ঞ কমিটি। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কটির ইকনমিক ক্যাপিটাল ফ্রেমওয়ার্ক (ই সি এফ) খতিয়ে দেখতে গঠন করা হচ্ছে এই কমিটি।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে মোদী সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। তা চরমে ওঠে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত তহবিলের ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা ভাগ নিয়ে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত তহবিলের পরিমাণ এবছর ৯.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা। কেন্দ্রের কোষাগারে ৩.৬লক্ষ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কে চিঠি দেয় কেন্দ্র। তা মানেনি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বোর্ডের বৈঠকে এই টাকার ভাগ নিয়ে আলোচনা হয়। কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা স্বাভাবিকভাবেই তা কেন্দ্রের কোষাগারে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তা নিয়ে আপত্তি জানায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই বিরোধের ফয়সালায় গত সপ্তাহে, দীর্ঘ নয়-ঘণ্টার বৈঠকে ই সি এফ খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বোর্ড।


বিশেষজ্ঞ কমিটিতে কারা থাকবেন, কমিটি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে তা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে স্থির করবে। বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের পর এই বিষয়ে ফয়সালা হবে। ‘আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে কমিটির সদস্যদের নাম যৌথভাবে ঠিক করবেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর এবং অর্থসচিব।’ সংবাদ সংস্থা পি টি আই-কে জানিয়েছে একটি সূত্র। কমিটিতে থাকবেন অন্তত তিনজন। যাতে যুক্ত করা হবে বর্তমান ও অতীতের ব্যাঙ্ক কর্তাদের, থাকবেন অর্থমন্ত্রক থেকে একজন। ‘আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে কমিটি তার সুপারিশ পেশ করবে, এমন একটা ভাবনা রয়েছে, আর্থিকবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই জমা দিতে হবে এই সুপারিশ।’


অতীতে, উদ্বৃত্ত তহবিলের ভাগ বা ই সি এফ খতিয়ে দেখতে গঠিত হয়েছে তিনটি কমিটি। ১৯৯৭-তে সুব্রহ্মনিয়াম কমিটি, ২০০৪ সালে উষা থোরাট কমিটি এবং ২০১৩-তে ওয়াই এইচ এম মালেগাম কমিটি। সুব্রাহ্মনিয়াম কমিটির সুপারিশ ছিল জরুরি তহবিল তৈরি করা উচিত ১২ শতাংশ পর্যন্ত, যেখানে থোরাট কমিটির বক্তব্য ছিল অনুরূপ তহবিলে থাকা উচিত মোট সম্পদের ১৮ শতাংশ। মালেগাম কমিটির সুপারিশ ছিল মুনাফার পর্যাপ্ত পরিমাণ পাঠানো উচিত জরুরি তহবিলে।

Post a Comment

0 Comments