রাহুল গাঁধী আসলে কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ’, দাবি পুষ্কর মন্দিরের পুরোহিতের

রাহুল গাঁধীর গোত্র দত্তাত্রেয় এবং তিনি কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ। এমনটাই দাবি করলেন রাজস্থানের পুষ্কর সরোবরের মন্দিরের পুরোহিত। পুষ্করের মন্দিরে রাহুলের বিভিন্ন পূর্বপুরুষদের দেওয়া পুজোর নথিপত্র থেকেই জানা গিয়েছে রাহুলের ধর্মীয় পরিচয়। সোমবার পুষ্করের মন্দিরে পুজো দেওয়ার সময়ও তিনি নিজের এই ধর্ম পরিচয়ই পুরোহিতকে দেন বলে জানা গিয়েছে।


রাহুল গাঁধীর ধর্ম কী, তা বরাবরই দেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশের কাছে চর্চা ও আগ্রহের বিষয়। সাম্প্রতিক কালে ভারতীয় রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব আরও বাড়তে থাকায় সেই প্রশ্ন আরও জোরাল হয়ে উঠেছে। লোকসভা ভোটের আগে বাড়তে থাকা এই বিতর্ককে যে গুরুত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস থিঙ্কট্যাঙ্ক, তার প্রমাণ মিলেছে বিভিন্ন সময়ে। বারবার বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়া, কৈলাস মানসরোবরে তীর্থযাত্রা করে সেই বিতর্ককে বাড়তে না দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন খোদ কংগ্রেস সভাপতি নিজেই। যদিও তাঁর ধর্ম নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর সরাসরি পাওয়া যায়নি। রাহুল গাঁধীর উইকিপিডিয়া পেজেও তাঁর ধর্ম নিয়ে কিছু বলা না থাকায় প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছিল।

সোমবার পুষ্করের মন্দিরে পুজো দিয়ে সেই বিতর্কে কিছুটা হলেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেন রাহুল গাঁধী, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পুষ্কর মন্দিরের পুরোহিত দীননাথ কউলের দাবি, “ওঁর গোত্র দত্তাত্রেয় এবং উনি কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ। এই মন্দিরে পুজো দিয়েছেন মতিলাল নেহরু, জওহরলাল নেহরু, সঞ্জয় গাঁধী, মানেকা গাঁধী। সবার পুজো দেওয়ার নথিই আমাদের কাছে আছে। সেই সব নথিও একই কথা বলছে। সোমবার ঘাটে পুজো দেওয়ার সময় রাহুল নিজেও আমাকে এই ধর্মীয় পরিচয়ই দিয়েছেন। দত্তাত্রেয় গোত্রের মানুষদের কউল পদবি হয়, আর কউলরা কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ।”

রাহুল গাঁধীর পরিবারে বিভিন্ন প্রজন্মে বিভিন্ন ধর্মের উপস্থিতি রয়েছে। তাঁর মা সনিয়া গাঁধী উত্তরাধিকার সূত্রে রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান। পিতামহ ফিরোজ গাঁধী আবার জন্মসূত্রে পার্সি। যদিও জওহরলাল নেহরু এবং ইন্দিরা গাঁধী আবার উত্তরাধিকার সূত্রে কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ। এই জটকে হাতিয়ার করেই রাহুলের ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি শিবির। আপাতত নিজের ধর্ম পরিচয় সামনে নিয়ে এসে সেই বিতর্কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেন রাহুল, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Post a Comment

0 Comments