১০ ইঞ্চির পুরুষাঙ্গে বিপাকে ডাকাত সর্দার, বাঙুরে শাপমুক্তি

সাধারণ দোহারা চেহারা। উচ্চতা বড়জোড় সাড়ে পাঁচ ফুট। এই বহরের ভারতীয় পুরুষদের গোপনাঙ্গের দৈর্ঘ্য খুব বেশি হলে ৮-৯ সেন্টিমিটার হতে পারে। কিন্তু যদি ২৫ সেন্টিমিটার হয়ে যায়? সম্প্রতি টালিগঞ্জের এম আর বাঙুর হাসপাতালের সার্জনরা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিন গুণ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এমনই এক পুরুষাঙ্গের হদিশ পেলেন। কেটে বাদও দিলেন। শাপমুক্ত করলেন ডাকাতির অভিযোগে ধৃত এক জেলবন্দি আসামিকে।



রোগীর নাম কানু প্রামাণিক। বয়স ৪৮। বহরমপুর সংশোধনাগার থেকে সম্প্রতি আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে আসা হয়েছে তাকে। গত ২৮ নভেম্বর বাঙুরে সার্জন ডা. জয়দীপ রায়ের অধীনে কানুকে ভর্তি করা হয়। রোগের প্রকোপে পুরুষাঙ্গের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শয্যাশায়ী করে ফেলেছিল কানুকে। প্যান্ট তো দূরের কথা, লুঙ্গিও পরতে পারছিল না সে। জয়দীপবাবু জানান, এটা ‘রামসাম পেনিস’ বা ‘ফাইলেরিয়াল পেনিস’। দৈর্ঘ্য ছিল ২৫ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১০ সেন্টিমিটার। ‘অসুস্থ’ পুরুষাঙ্গ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিল রোগী।




একটা সময় মেক্সিকোর রবার্তো ক্যাবেরার ১৮ ইঞ্চির পুরুষাঙ্গ ঘিরে দুনিয়াজুড়ে হইচই পড়েছিল। হাঁটুর নিচে নেমে গিয়েছিল ‘ম্যানহুড’। বিপন্ন হয়েছিল রবার্তোর স্বাভাবিক জীবনযাপন। অবশেষে মেক্সিকো সরকার রবার্তোকে প্রতিবন্ধী বলে ঘোষণা করে। আমেরিকার জন ফ্যালকন সাড়ে তেরো ইঞ্চি পুরুষাঙ্গের মালিক। কানুর পুরুষাঙ্গের সঙ্গে অবশ্য এঁদের তুলনা চলে না। কারণ, কানুর এই দৈত্যাকৃতি পুরুষাঙ্গ জন্মগত বা স্বাভাবিক নয়। ফাইলেরিয়ার ছোবলে তার এই হাল। পুরুষাঙ্গ বাদ পড়লেও অণ্ডকোষ অবশ্য অবিকৃত রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর কানুর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সর্বক্ষণ পাহারায় রয়েছেন দুই পুলিশকর্মী। তবে, চিকিৎসকরা সবাই খুশি। তাঁদের দাবি, জেলা হাসপাতালে এই ধরনের অপারেশন সাধারণত হয় না। কিন্তু রোগীর অবস্থা সংকটজনক দেখে বাঙুরের সার্জারি বিভাগ রাজি হয়।




জানা গিয়েছে, বড় পুরুষাঙ্গ নিয়ে ভয়ংকর বিপাকে পড়েছিল কানু। নরকযন্ত্রণা ভোগ করছিল। শহরের বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট ডা. পি কে মিশ্র জানিয়েছেন, পুরুষাঙ্গে ফাইলেরিয়া অত্যন্ত বিরলতম। আগে তবু দেখা যেত। এখন একদমই দেখা যায় না। আর এই রোগীর পুরুষাঙ্গ তো ২৫ সেমি হয়ে গিয়েছিল। যেটা খুবই বড়। প্রায় একই বক্তব্য প্রবীন ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. অমরেশচন্দ্র রায়ের। জানালেন, “এত বছর প্র‌্যাকটিস করছি। এত বড় পুরুষাঙ্গ দেখিনি। এই অঙ্গে ফাইলেরিয়া হলে পূর্ণিমা-অমাবস্যায় জ্বর আসে। আসে বিকৃতি। এই সব ক্ষেত্রে অপারেশন করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় থাকে না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাঙুরের চিকিৎসকরা। বাদ দেওয়ার পর রোগীর পুরুষাঙ্গ ‘রিকনস্ট্রাক্ট’ করা হয়। কানুর ক্ষেত্রেও হয়েছে। দু’দিনের মধ্যেই ছাড়া পাবে আলিপুর সংশোধনাগারের ‘ডাকাতসর্দার’।

Post a Comment

0 Comments