মশান তৈরীর জন্য দেড় বিঘা জমি দিয়ে সম্প্রীতির নজির গড়লেন মহম্মদ ফারুক

হিন্দু ভাইদের শবদাহে অসুবিধা হচ্ছে দেখে বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের সদাইপুর থানার সাহাপুর গ্রামে শ্মশান তৈরীর জন্য ৫৬ বছর বয়সি মহম্মদ ফারুখ মূল্যবান দেড় বিঘা জায়গা দান করলেন। যার বাজার দর প্রায় ১০ লাখ টাকা। মহম্মদ ফারুক বলেন, ‘আমার গ্রাম সাহাপুর তো আছেই। পাশাপাশি দুবরাজপুর থানা এলাকার পদুমা, চিনপাই গ্রামের অংশবিশেষ ও পারুই থানা এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের নিকট আত্মীয়ের মৃতদেহ সৎকারের জন্য বক্রেশ্বর নদীর তীরে ফাঁকা শ্মশানে আসতেন। ঝড়-বৃষ্টি ও রোদে-জলে তাদের ভোগান্তি আমি দেখেছি। বছরখানেক আগে গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোককে আমি বলেছিলাম, আসুন সবাই মিলে হাতে হাত মিলিয়ে শ্মশানে যাওয়ার রাস্তা ও জায়গা দিই। সবাই রাজি হলেও কাজ হতে দেরি হচ্ছে দেখে আমার ১২৪ দাগের জায়গা থেকে দেড় বিঘা জায়গা দিয়ে দেব বলে অঙ্গীকার করালাম।.

 আমাদের অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি শেখ এনামুল আমাকে এ কাজের জন্য যাবতীয় পরামর্শ দিয়েছেন উনি আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। আগামী ২৬ ডিসেম্বর জমি জরিপ করিয়ে ম্যাপ করে দেবেন সার্ভেয়ার। তারপরেই আমি খরচা দিয়ে দলিল করে দেব। রাস্তা ছিল না নদীর শ্মশান ঘাটে যাওয়ার। ৬০০ ফুট লম্বা রাস্তাও দিয়েছে। শ্মশান করার জন্য বড়ো চাতাল দিয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি স্বপন মণ্ডল আমাকে বলেছেন ওই রাস্তাটি পাকা করে দিয়ে শ্মশানের ঘর বানিয়ে দেবেন। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি । কেউ বিভেদ করার চেষ্টা করলে তা আমরা হতে দেব না।’ তৃণমূলের সাহাপুর অঞ্চল সভাপতি শেখ এনামুল বলেন, ‘ফারুক সাহেব জায়গা দান করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দেখিয়ে দিতে চাই হিন্দু মুসলমানের কোনো ভেদাভেদ নেই।’

দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি স্বপন মণ্ডল জানান, ‘ফারুক সাহেবের মত ব্যাক্তিকে আমি কুর্নিশ জানা। উনি জায়গা দান করেছেন আর আমরা পঞ্চায়েত সমিতি থেকে ওখানে ১০ লাখ টাকা খরচ করে শ্মশান ঘাট ও রাস্তা তৈরি করে দেব।’ দুবরাজপুর তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ভোলানাথ মিত্র জানান, ‘মহম্মদ ফারুক হিন্দু-মুসলমানের সেতু আরো মজবুত করে তুলল।’

Post a Comment

0 Comments