রাফালে ইস্যুতে কেন্দ্রকে বেনজির তোপ হ্যাল-এর

এবার রাফালে ইস্যুতে কেন্দ্রকে বিদ্ধ করল হ্যাল। যুদ্ধবিমানটির চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন জাতীয় সামরিক বিমান নির্মাণকারী সংস্থাটির প্রধান আর মাধবন। তাঁর দাবি, রাফালের মতো আধুনিক বিমান তৈরির পরিকাঠামো রয়েছে হ্যাল-এর হাতে। তবে মাত্র ৩৬টি বিমান কেনার চুক্তিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রশ্নই উঠছে না।





রাজস্থানের উদয়পুরে ইঞ্জিনিয়ারদের একটি সমাবেশে রাফালে বিমান নিয়ে বক্তব্য পেশ করেন মাধবন। তিনি বলেন, ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফালে নিয়ে প্রাথমিক আলোচনার সময় থেকেই দেশের মাটিতে যুদ্ধবিমানটি তৈরির জন্য প্রস্তুত ছিল হ্যাল। এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও রয়েছে সংস্থাটির হাতে। প্রযুক্তি হস্তান্তর হলেই লাইসেন্স প্রোডাকশন শুরু করা যেত। তবে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর কাটছাঁট করা হয় বিমানের সংখ্যা। ১২৬টির বদলে মাত্র ৩৬টি রাফালের যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। এদিন হ্যাল প্রধান আরও বলেন যে সামরিক ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান মজবুত করতে গবেষণা ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে জোর দেওয়া উচিত।




রাফালে ইস্যুতে চাপে রয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। লোকসভা নির্বাচনে রাফালে অস্ত্রে শান দিচ্ছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাফালে চুক্তিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন রাহুল গান্ধী। এমন পরিস্থিতিতে হ্যাল প্রধানের বয়ানে গেরুয়া শিবিরে চাপ বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাফালে চুক্তির বরাত সরকারি সংস্থাকে না দিয়ে দেওয়া হয়েছিল রিলায়েন্স গোষ্ঠীকে।তা নিয়ে উঠে প্রশ্ন। সরকার স্পষ্ট কোনও উত্তর না দিলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ অস্ফুটে উত্তর দিয়েছিলেন। তাঁর জবাব ছিল, হ্যাল(HAL)-এর নাকি রাফালে তৈরির উপযুক্ত পরিকাঠামো ছিল না। এরপরই হ্যালের তরফে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয় যাতে দেখা যায় সংস্থাটি প্রায় সমস্তরকম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে সংস্থাটি। তালিকায় আছে সুখোই-৩০ এমকেআই, এলসিএ তেজস, ডর্নিয়ের ডু-২২৮ বিমান এবং এএলএইচ ধ্রুব এবং চিতা হেলিকপ্টার।

Post a Comment

0 Comments