বেকারত্বের তথ্য প্রকাশে ‘নারাজ’ কেন্দ্র, পদত্যাগ পরিসংখ্যান কমিশনের ২ আধিকারিকের

 বিচারব্যবস্থা, আরবিআই, সিবিআইয়ের পর এবার পরিসংখ্যান কমিশনেও মোদি সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ। মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, এই অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন পরিসংখ্যান কমিশনের দুই শীর্ষ আধিকারিক। পদ ছাড়লেন,পরিসংখ্যান কমিশনের (ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশন) কার্যনির্বাহী চেয়্যারপার্সন পি সি মোহনন এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাস্টিক্যাল সার্ভিসের প্রাক্তন সদস্য জে ভি মীনাক্ষী। মোহনন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভোটের মুখে কর্মসংস্থানের রিপোর্ট প্রকাশে বাধা দিচ্ছে কেন্দ্র। তাঁর অভিযোগ, বেশ কিছু দিন ধরে তাঁর পদকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি মোহননকে কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

পদত্যাগকারী আধিকারিকদের অভিযোগ, সরকার তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়নি। ভোটের আগে গত বছরের বেকারত্ব ও রোজগার সংক্রান্ত তথ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হলেও তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। এমনকি তথ্য প্রকাশের আগে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। পি সি মোহনন জানিয়েছেন, “আমাদের মনে হয়েছে কমিশন সঠিক সময়ে তথ্যপ্রকাশ করতে পারছে না। এবং সাম্প্রতিককালে আমাদের ব্রাত্য করে দেওয়া হচ্ছিল, আমাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না।” তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কমিশনের তরফে ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের বেকারত্ব এবং রোজগার সংক্রান্ত রিপোর্ট গত বছর ডিসেম্বর মাসেই সরকারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি অভিযোগ তোলা হয় পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে গড়িমসির। মোহনন এবং মীনাক্ষীদেবীর ইস্তফার আগেও ৭ সদস্যে এনএসসি কমিশনে ৩ টি পদ শূন্য ছিল। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশনের আর মাত্র দু’জন সদস্য অবশিষ্ট রইলেন। এরা হলেন, মুখ্য পরিসংখ্যানবিদ প্রবীণ শ্রীবাস্তব, এবং নীতি আয়োগের অমিতাভ কান্ত।

স্বাভাবিকভাবেই দুই আধিকারিকের পদত্যাগকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে কংগ্রেস। সাংসদ আহমেদ প্যাটেলের অভিযোগ, মোদি সরকার নিজেদের কুশাসনের তথ্য চাপা দিতে চাইছে, তাই চাপ সৃষ্টি করা হত্থে পরিসংখ্যান কমিশনের উপরেও। একই অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমও।

Post a Comment

0 Comments