‘বিশ্বাসঘাতক’ মৌসমকে হারাতে গনি আবেগই ভরসা কংগ্রেসের, প্রার্থী হচ্ছেন ডালুর ছেলে

ভাগনি দল ছেড়েছেন। মামার দলবদল আটকাতে আসরে নামলেন সোমেন মিত্র। ঘোষণা করে দিলেন ডালুবাবুর ছেলে লড়বেন লোকসভা ভোটে। সোমবার তৃণমূলে যোগ দেন মালদহ উত্তর কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। তার পরই মালদহ জেলাজুড়ে জল্পনা ছড়ায়, ভাগনির পর তৃণমূলের পথে কি মামাও? বেশ কয়েক মাস ধরেই মৌসমের মামা তথা দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরি (ডালু) রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে জোট চাইছিলেন। এমনকী, তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করেন ডালুবাবু। তখনই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল মামা-ভাগনির তৃণমূলে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।


কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির চেয়ারে সোমেন মিত্র বসার পর পরিস্থিতির কিছুটা বদল হয়। ডালুবাবুকে প্রদেশের সহ-সভাপতি করা হয়। আর মৌসমের সঙ্গেও একাধিকবার কথা বলে তৃণমূলে যাওয়া আটকানোর চেষ্টা করেন সোমেন। তারপর প্রকাশ্যে দুই কংগ্রেস সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গে জোটের সওয়াল নিয়ে আর রা কাড়ছিলেন না। কংগ্রেস শিবির থেকে যখন মনে হচ্ছিল, ‘ফাঁড়া’ কাটল, তখনই আঘাতটা এল। সোমবার ভাগনি মৌসমের তৃণমূলে যোগদানের পর মামা ডালু এখন কী করবেন, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মালদহের রাজনৈতিক মহলে। এদিন বারংবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি ডালুবাবুকে। গনি পরিবারের প্রথম কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূলে যাওয়া গনির আরেক ভাই আবু নাসের খান চৌধুরি (লেবু)কেও ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, গনি পরিবারের সদস্য ডালু-পুত্র কংগ্রেস বিধায়ক ঈশা খান। তিনি বলেন, “মৌসম তৃণমূলে যাবেন, তা জানা ছিল না। এই সিদ্ধান্ত ভুল। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা হবে।” তবে মৌসমের দলত্যাগে পারিবারিক সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে জানান ঈশা।

এই অবস্থায় ডালুবাবুর তৃণমূলে যাওয়া আটকানোর জন্য আসরে নামেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। তিনি বলেন, “ডালুবাবু তৃণমূলে যাবেন না, তা গ্যারান্টি দিয়ে বলছি। আর তাঁর ছেলে ঈশা খান চৌধুরি প্রার্থী হবেন মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে।” বর্তমানে সুজাপুরের বিধায়ক ঈশা। ফলে এবার মৌসমের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রার্থী হচ্ছেন ডালুবাবুর ছেলে। তবে, গনির পরিবারের সদস্যরা মুখ না খুললেও মুখ খুলেছেন মালদহ জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। মৌসমের তৃণমূলে যোগে তিনি বলেন, “আমরা গর্বিত।” তৃণমূলে নেত্রী মৌসমকে দলের সাধারণ সম্পাদক ও চার জেলার দায়িত্ব দেওয়ায় আরও খুশি মোয়াজ্জেম সাহেব। উল্টোদিকে জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা হরিশচন্দ্রপুরের বিধায়ক মুস্তাক আলম বলেন, “লোভীদের দলবদলে কংগ্রেসের কোনও ক্ষতি হবে না।”

Post a Comment

0 Comments