বাসে বহরমপুর যাবার পথে বালিরঘাট ব্রিজ দেখেই ঢুকড়ে কেঁদে উঠলো যুবক,যে আট কৃতি সন্তান কে হারিয়েছিল জেলাবাসী, দেখে নিন একঝলকে

একদিন সন্ধ্যায় ডোমকল থেকে বহরমপুর যাবার জন্য একটি লোকাল বাসে উঠেছি। আমার ঠিক পাশেই বসেছে মধ্যবয়সী এক যুবক। আমাদের বাসটি বালুরঘাট ব্রীজের উপর  উঠতেই হঠাৎ নদীর দিকে তাকিয়ে এক যুবকের স্বজোরে কান্নার আওয়াজ! চমকে উঠে আমি তাকে একটু শান্তনা দিলাম। ততক্ষনে আমি অনুভব করেছিলাম নিশ্চিত তার কোনো আত্মীয় বাস দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। তাকে জিজ্ঞেসা করতেই তার দিদি সুফিয়া মমতাজ (২৯) এই বাস দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছে বলে জানান। উল্লেখ্য, সুফিয়া মমতাজ সামসেরগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর এবিএস বিদ্যাপীঠের শিক্ষিকা ছিলেন।

      ওই যুবক প্রতিবেদককে জানান, ২৯ শে জানুয়ারি, ঠিক ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটে জামাই বাবু দিদিকে বাসে তুলে দেয়। দিদি আসছে শুনে মা ভোর বেলাতেই দিদির জন্য রান্না করতে শুরু করে। হঠাৎ মা খবর পায় বালুরঘাটে বাস দূর্ঘটনা ঘটেছে। তারপরই মা বলে তোর দিদি আসছে না কেনো? দিদিকে ফোনে পাচ্ছি না। আমিও অনেক চেষ্টা করলাম দিদিকে ফোন লাগানোর কোনো ভাবেই ফোনে পেলাম না। কিছুক্ষনের মধ্যেই জামাই বাবু ফোন করে বলে দূর্ঘটনাগ্রস্ত বাসেই তার দিদি রয়েছে। তখন আমি একাই ছুটে যায় বালুরঘাটে। নদীর চারপাশে অনেক মানুষ। কিছুক্ষনের জন্য আমি ভেবে নিয়েছিলাম নদীতে ঝাপ মারব। কিন্তু আমি বাস দেখতে পায়নি। তারপরেই দিদির দেহ ভেসে উঠে আসতেই বাকরুদ্ধ হয়ে দিদির দিকে তাকিয়ে থাকলাম আমি! যখনই এই ব্রিজের উপর দিয়ে যায়, ঠিক তখনই বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠে দিদি সুফিয়া মমতাজের কথা। এখনও নাড়া দিচ্ছে সেই দূর্ঘটনার চিত্র


আজকের দিনে মুর্শিদাবাদে বাস দুর্ঘটনায় যে আট কৃতি সন্তান কে হারিয়েছিল জেলাবাসী, দেখে নিন একঝলকে 

 সামান্য একটু ভুল! যার খেসারতে ৪৪ টি তাজা প্রান চলে গিয়েছিল। ঠিক একবছর আগে আজকের দিনে জেলাবাসী হারিয়েছিল আট কৃতি সন্তানকে। অভিশপ্ত দৌলতাবাদ স্বপ্নদেখা বেশকিছু মায়ের কোল শুধু খালি করেনি, হারিয়েছে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া একটা প্রান্তিক জেলার বেশকিছু উজ্জ্বল নক্ষত্র দের। যে শূণ্য স্থান সৃষ্টি হলো তা নিয়ে চিন্তায় শিক্ষিত সুধী সমাজ। মুর্শিদাবাদের বাস দুর্ঘটনায় মৃতদের তালিকা দেখলে কঠিন হৃদ্বয়ের ব্যক্তিদের ভিতর কেপে উঠবে। একঝলকে দেখে নিন সেই কৃতি সন্তানকে-

১। সাফিন বিন রহমান (ডব্লুবিসিএস অফিসার)

২। সুফিয়া মমতাজ -শিক্ষিকা, জয়কৃষ্ণপুর এবিএস বিদ্যাপীঠ

৩। সুজয়  দাস- শিক্ষক,  বীরনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়

৪। মলয় বিশ্বাস-শিক্ষক, লক্ষীপুর পালগাছি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

৫। প্রদ্যুত চৌধুরী- শিক্ষক, গৌরীপুর হেমাজুদ্দিন হাইস্কুল

৬। জয়শ্রী চ্যাটার্জি- শিক্ষিকা, গোঠা এ আর রহমান হাইস্কুল

৭। শুভব্রত বাবু – মিত্রপুর, মুরারই

৮। মানস পাল -শিক্ষক,  ফতুল্লাপুর হাইস্কুল

৯। গোলাম মোস্তফা- শিক্ষক, হরিশংকরপুর হাইস্কুল।



Post a Comment

0 Comments