ফের গোল জবির, তীরের আঘাত সামলে নতুন বছরের শুরুতেই কলিঙ্গজয় সম্পন্ন লাল হলুদের

ফের গোল জবির, তীরের আঘাত সামলে নতুন বছরের শুরুতেই কলিঙ্গজয় সম্পন্ন লাল হলুদের



ইস্টবেঙ্গল - ২
ইন্ডিয়ান অ্যরোজ - ১

গোল করা টা কি হবিতে পরিণত করে ফেললেন জবি জাস্টিন? অন্তত এদিনের খেলা শেষে চৌম্বকে এটাই মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। আজ ইন্ডিয়ান অ্যরোজের বিরুদ্ধে এবারের আই লিগে নিজের সাত নম্বর গোল টি করে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এলেন তিনি, পেড্রো ও প্লাজার ঠিক পেছনেই।

 যার দরুণ নতুন বছরের যাত্রা জয় দিয়েই আরম্ভ করল লাল হলুদ বাহিনী। এদিন অবশ্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে অভিষেক হওয়া টনি ডোভালে। কোচ আলেসান্দ্রো অনেক আস্থা নিয়ে তাঁকে দশ নম্বর জার্সি প্রদান করেছেন। এবং তিনি, অর্থাৎ টনি, আবির্ভাবেই বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর উপর ভরসা করা যায়। রিসিভিং, পাসিং, বল হোল্ড করা, নজর কাঁড়লেন সবেতেই। বিশেষত, দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে জবির গোলের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর বাড়ানো বল।

যেই বল ধরে সামাদ আলি মল্লিক গোল লক্ষ্য করে শট নিলে তা প্রতিহত করেন অ্যরোজের গোলরক্ষক প্রভসুকান। ফিরতি বল ফাঁকা গোলে মারতে কোনো ভুল করেননি জবি। লাল হলুদের প্রথম গোল আসে খেলার ছাব্বিশ মিনিটের মাথায়। থ্রো থেকে বল পেয়ে কোলাডো কর্নার ফ্ল‍্যাগের কাছাকাছি জায়গা থেকে পেনাল্টি বক্সের উদ্দেশ্যে বল ভাসিয়ে দেন। এবং চলতি বলে জোরালো শটে ইস্টবেঙ্গল কে ১-০ এগিয়ে দেন লালডানমাউয়া রালতে। এরপর খেলাতে ধীরে ধীরে প্রাধান্য বিস্তার করতে আরম্ভ করে মশালবাহিনী। একত্রিশ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু নিরীহ প্লেসিং এ গোলরক্ষকের হাতে বল তুলে দিয়ে দলকে দুই গোলে এগিয়ে দেবার সুবর্ণ সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন লালরিনডিকা। প্রথমার্ধের শেষে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে ছিল এক গোলে।

বিরতির পর অবশ্য বড়  ধাক্বা নেমে আসে লাল হলুদ শিবিরে। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন চুল্লোভা। যার দরুণ ইস্টবেঙ্গলকে দ্বিতীয়ার্ধের অধিকাংশ সময় দশ জনেই খেলতে হয়। রক্ষণভাগের একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার ফলে কোলাডোকে বসিয়ে সামাদ কে নামাতে একরকম বাধ্য হন আলেসান্দ্রো। এবং সামাদ বাকি সময় যথেষ্ট ভালোই খেলেন ও দলের দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেন। এই সময় বার বার আক্রমণ করেও গোলমুখ খুলতে পারেননি অ্যরোজের তরুণ খেলোয়াড়রা। ঠান্ডা মাথায় ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ সামাল দেন জনি আকোস্টা ও বোরহা গোমেজ। বিশেষত জনি এদিন বারবার তাঁর নিজের জাত চেনালেন, একাধিকবার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। লাল হলুদের গোলরক্ষক ডাগার ও বেশ নজর কাড়েন এদিন।

শেষ দিকে অ্যরোজের অনিকেত যাদব লাল কার্ড দেখেন, দুটি হলুদ কার্ড দেখার জন্য। ফলে অ্যরোজকেও বাকি সময় দশজনে খেলতে হয়। খেলার একেবারে অন্তিম লগ্নে পেনাল্টি পায় অ্যরোজ। যা থেকে গোল করতে ভুল করেননি এন মিতাই। এই ম্যাচে জিতে দশটি খেলা র শেষে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকায় চার নম্বরে রইল ইস্টবেঙ্গল। যদিও দল জেতা স্বত্ত্বেও স্বস্তিতে নেই লাল হলুদ শিবির। পরের ম‍্যাচ যে শীর্ষে থাকা চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে। আর সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম‍্যাচে ইস্টবেঙ্গল কোচ পাবেন না চুল্লোভাকে।


EBRP DESK:- দীপ্তাশিষ দাশগুপ্ত(sources Ebrp )

Post a Comment

0 Comments