আইজলের বিরুদ্ধে আজ ‘টিকে’ থাকার লড়াই 3 পয়েন্ট টার্গেট

নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলের বেশ কয়েকটি ঘরের টিভিতে একই চ্যানেল চলছিল রবিবার বিকালে। সেখানে চোখ রেখেছিলেন ঘরে থাকা মানুষগুলো। সময় যত এগিয়েছে ততই হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়েছে টিভিতে চোখ রাখা মানুষগুলোর চোখে মুখে। আই লিগের শুরু থেকেই ম্যাচের আগেরদিন ফুটবলারদের পাঁচতারা হোটেলে রাখছে ইস্টবেঙ্গল। রবিবার আইজল ম্যাচের আগেরদিনও নিয়মটা পালটায়নি।


 তবে বিকালে আইজল ম্যাচ আর মাথায় ছিল না এনরিকে-জবিদের। মোহনবাগান-চেন্নাই ম্যাচে নজর ছিল তাদের। যদি কোনওভাবে পয়েন্ট নষ্ট করে চেন্নাই। তবে, প্রথমার্ধের কিছুক্ষণের মধ্যেই ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের কাছে। তবে ইস্টবেঙ্গল কোচ অবশ্য হতাশ হতে দিচ্ছেন না তাঁর ফুটবলারদের। বারবার বলছেন, ‘তোমরা নিজেদের ম্যাচগুলো জেতো।’ সকালেও দেখা গেল প্রায় একই রকম ছবি।

শেষ কয়েকটা ম্যাচে দলকে নির্ভুল করতে পরিশ্রম করে চলেছেন স্প্যানিশ কোচ। অনুশীলন প্রায় শেষ তখন। বাঁদিক থেকে ক্রস তুলছিলেন মনোজ মহম্মদ। ঠিক পছন্দ হলো না আলেজান্দ্রোর। প্রথমে মনোজকে দেখিয়ে দিলেন ক্রস তোলার সময় দুই পায়ের পজিশন কেমন থাকবে। তাও ভুল করলেন মনোজ। না, আলেজান্দ্রো রাগলেন না। পাশে থাকা বল হাতে নিয়ে বসালেন মাঠে। একের পর এক নিখুঁত সেন্টার ভাসিয়ে গেলেন জবির জন্য। মনোজকে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি ঠিক কি চাইছেন। কার্ড সমস্যায় নেই জনি অ্যাকোস্টা। তার জায়গায় দলে ঢুকবেন সালামরঞ্জন সিং। আক্রমণে প্রথম থেকেই সব অস্ত্র একসঙ্গে প্রয়োগ করবেন আলেজান্দ্রো।

 টনি, জবি, এনরিকে, কোলাডোরা প্রথম একাদশেই শুরু করবেন। জনির না থাকা নিয়ে ভাবতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল কোচ। ‘আমি সবসময়ই বলি, আমার কাছে দল গুরুত্ব পায়। আমরা অবশ্যই জনির যোগ্য বিকল্প মাঠে নামাবো।’ টনি, কোলাডোকে একসঙ্গে মাঠে নামাবেন কিনা, তা অবশ্য বলতে চাননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। প্রতিপক্ষ আইজল এফসি লিগ টেবিলের তলার দিকে। সেটা কি কিছুটা সুবিধা? আলেজান্দ্রো কিন্তু তা মানতে নারাজ। ‘আইজল অবনমনের আওতায়। ওদেরও তাগিদ আছে। আমাদের কাছে কাজটা মোটেও সহজ হবে না।’ অ্যাওয়ে ম্যাচে আইজলের কাছেই হারতে হয়েছিল। স্প্যানিশ কোচ অবশ্য এসব মনে রাখছেন না। যেমন মাথায় রাখছেন না চেন্নাইয়ের এগিয়ে থাকাও। বেশ জোরেই সঙ্গে বলছেন, ‘আমরা যদি বাকি সব ম্যাচ জিততে পারি, আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবে। আমি নিশ্চিত চেন্নাই পয়েন্ট নষ্ট করবে।’ অন্যদিকে আই লিগের শুরুতে সমর্থকদের কাছে জার্সির ডিজাইন চেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। বলা হয়েছিল, প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ডিজাইনের জার্সি পরেই খেলবেন জবিরা। যে তিনজনের পাঠানো জার্সির ডিজাইন নির্বাচিত হয়েছিল, আইজল ম্যাচের আগেরদিন তাদের পুরস্কৃত করল ইস্টবেঙ্গল। পুরো দলের সই করা জার্সি তুলে দেওয়া হলো তাদের হাতে।

Post a Comment

0 Comments