প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্তকে ‘ছেঁটে’ ফেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা প্রিয়ঙ্কার

দায়িত্ব পেয়েই স্থানীয় নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করে বুঝে নিয়েছিলেন দলের হাল-হকিকত। এ বার দলের রাশও নিজের হাতে নিচ্ছেন প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা। আর সেটা করতে গিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তাও দিলেন পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক। তাঁর সহযোগী হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার এক দিনের মধ্যেই দলের এক নেতাকে ছেঁটে ফেললেন প্রিয়ঙ্কা। কুমার আশিস নামে ওই নেতার বিরুদ্ধে বিহারে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। সেটা জানতে পেরেই রাহুল গাঁধীকে নালিশ করেন প্রিয়ঙ্কা। রাহুলও তাঁকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন প্রিয়ঙ্কার কোর গ্রুপ থেকে।


লোকসভা ভোটের আগে প্রিয়ঙ্কা গাঁধীকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দিয়েছেন রাহুল গাঁধী। আর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব বর্তেছে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কাঁধে। দু’জনকে সাহায্য করতে মঙ্গলবারই তিন জন করে সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত করে দলের হাইকম্যান্ড। প্রিয়ঙ্কার দলে ছিলেন বিহারের কুমার আশিস, জুবের খান এবং বাজিরাও খাড়ে।

কিন্তু এই নিয়োগের পরই কুমার আশিসকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই শুরু হয়। কারণ তিনি বিহারে একটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসে অভিযুক্ত এবং কিছুদিন হাজতবাসও করেছেন। বিহারের শাসক তথা নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেডের নেতারাও এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন টুইটার-ফেসবুকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ক্ষোভের আঁচ পেয়েই কুমার আশিসের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হয়। বিষয়টি জানতে পেরেই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীকে অভিযোগ জানিয়ে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানান প্রিয়ঙ্কা। দেরি করেননি রাহুলও। বুধবারই তাঁকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর জায়গায় সচিন নায়েককে নিযুক্ত করেন। দলের উত্তরপ্রদেশের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘প্রিয়ঙ্কা গাঁধীর কাছে খবর পৌঁছতেই তিনি এ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারপর রাহুলকে অনুরোধ করতেই দল তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিয়েছে।’’

বিহার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমার আশিস ২০০৫ সালে বিহারে একটি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার পরই কংগ্রেস থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করে দল। হাজতবাসের পর ছাড়া পেয়ে তার বেশ কিছুদিন পর ফের কংগ্রেসে যোগদান করেন। বিহারের বিভিন্ন নির্বাচনে একাধিক বার প্রার্থীও হয়েছেন তিনি।প্রিয়ঙ্কা এত দিন সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না। উত্তরপ্রদেশে মূলত তাঁর মা সনিয়া গাঁধীর রায়বরেলি এবং দাদা রাহুল গাঁধীর অমেঠি কেন্দ্রে ভোটের সময় প্রচারে দেখা যেত। দুই কেন্দ্রের ভোটাররা কার্যত প্রিয়ঙ্কাকে ঘরের মেয়ে বলেই জানেন। তাঁদের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি প্রিয়ঙ্কার। কিন্তু এ বার সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে নেমেই সামনে লোকসভা ভোটের কঠিন পরীক্ষার সামনে প্রিয়ঙ্কা। রাফাল, নোটবন্দি-সহ একাধিক দুর্নীতির বিরুদ্ধেই মূলত প্রচারের অস্ত্রে শান দিচ্ছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ফাঁসের মতো দুর্নীতিতে নাম জড়ানো কাউকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে রাখলে যে দল এবং তাঁর নিজের ভাবমূর্তির দিকে আঙুল উঠবেই, সেটা বুঝেছেন প্রিয়ঙ্কা। পাশাপাশি কুমার আশিসকে ছেঁটে ফেলে দলেরদুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের উদ্দেশেওপ্রিয়ঙ্কা কড়া বার্তা দিলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Post a Comment

0 Comments