গুলিতে নিহত তিন অগ্নিগর্ভ অরুণাচলে জ্বলল উপমুখ্যমন্ত্রীর বাড়িও

কার্ফিউর মধ্যেও অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরে থমথমে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। সেনা-পুলিশের সামনে রবিবার রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি জ্বালিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এদিন বেলা বারোটা নাগাদ প্রায় তিন শতাধিক যুবক হাতে পেট্রোল নিয়ে মিছিল করে রাজধানীর নিতি বিহার এলাকায় উপমুখ্যমন্ত্রী চাওনা মে’র বাড়ি ঢুকে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর ইটানগরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 এমনকি আগুন নেভাতে আসা দমকলের গাড়িও জ্বালিয়ে দেয় উন্মত্ত যুবকরা। আগুনে উপমুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। আগুন ধরানোর সময় উপমুখ্যমন্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। বাড়ির অন্য সদস্য ও নিরাপত্তা রক্ষীরা অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যান। আন্দোলনকারী যুবকরা এদিন এতই বেপরোয়া ছিল যে প্রায় দেড়শো গাড়ি, ৬০টির বেশি বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী পার্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব স্থলেও আগুন লাগিয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।


 শিল্পীদের বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলেছে। আটকা পড়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পীরা। ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের গুলিতে তিনজন আন্দোলনকারীর মৃত্যু ঘটেছে। প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন, ৩৫ জন পুলিশ কর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। ইটানগর ও নাহারলুগানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। শনিবার পুলিশের গুলিতে এক আন্দোলনকারী নিহত হন। রবিবার ওই মৃতদেহ নিয়ে মিছিল বের করা হয়। পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে মিছিল ভেঙে দেয়। পরে যুবকরা ফের জড়ো হয়ে মৃতদেহ নিয়ে রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ের সামনে চলে যান। তারা বিজেপি কার্যালয়ের ভেতর মৃতদেহটি সৎকার করতে উদ্যত হন। তখন সেনা এসে সকলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তিন শতাধিক যুবক পেট্রোল ঢেলে উপমুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি সহ আরও কয়েকটি বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু পরিস্থিতির অবনতি দেখে সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে অরুণাচল প্রদেশে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারে কেন্দ্র। সোমবারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আন্দোলনকারী সংগঠনের ফোরাম থেকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের মোদী সরকার রাজ্যে আগুন লাগিয়েছে।

এখন আন্দোলন দমাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার থেকে। রাজ্যের নাংসাই ও চাংসাঙ জেলায় বসবাসরত ‘ভুমিপুত্র’ নয় এমন ছয় জনগোষ্ঠী যথাক্রমে -দেউরি, সনোয়াল, কছারি, মরান,আদিবাসী ও মিচিং গোষ্ঠীকে স্থায়ী নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র(পিআরসি) দিতে বিধানসভায় বিল পেশ করতে চায় রাজ্যের বিজেপি সরকার।

 সরকারের দাবি, এ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। খবর পেয়ে আঠারোটি সংগঠন এর প্রতিবাদে বুধবারই মিছিল করে। পরদিন বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘণ্টার রাজ্য বন্‌ধ পালন করে তারা। বন্‌ধে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। বন্‌ধ ভাঙতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ছোঁড়ে, লাঠিচার্জ করে। বন্‌ধ আহ্বানকারীরা পালটা পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। ইটানগরে রীতিমতো হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার ইটানগর ও নাহারলুগানে কার্ফিউ জারি করা হয়। রবিবার কংগ্রেসের এক প্রতিনিধিদল রাজ্যপাল ব্রিগেডিয়ার বিডি মিশ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ছবি : বাড়ি, গাড়ি, দমকল জ্বলছে ইটানগরে।রবিবার।

Post a Comment

0 Comments