অর্ণব গোস্বামীর নজিরবিহীন আক্রমণের মুখে শচীন ‘দেশদ্রোহী

পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গির হামলা এবং ৪৯ জন জওয়ান শহিদ হওয়ার পর, দেশজুড়ে উঠেছে পাক বয়কটের ডাক৷ সমস্ত ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের ডাক দিয়েছে একটা মহল৷ যার রেশ পড়েছে ক্রিকেটের উপরও৷ আসন্ন বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচ বয়কটের দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকে৷ কিন্তু, এক্ষেত্রে অন্য পথে হেঁটেছেন ‘লিটল মাস্টার’ শচীন তেণ্ডুলকর৷ এভাবে পাকিস্তানকে জবাব দেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি৷ মাঠের খেলায় ওদের পর্যদুস্ত করে মোক্ষম জবাব দেওয়ার কথা বলেন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার৷ এটাই হয়তো বড় ভুল হয়ে গিয়েছে তাঁর৷ যার জেরে প্রখ্যাত সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর রোষের মুখে পড়তে হল ‘ভারতরত্ন’ শচীন তেণ্ডুলকরকে৷ কার্যত সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে ‘দেশদ্রোহী’ বলে তেণ্ডুলকরের সমালোচনা করেন অর্ণব গোস্বামী৷ এবং তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে সমালোচনার ঝড়৷


ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলার বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তেণ্ডুলকরকে প্রশ্ন করা হয়৷ জানতে চাওয়া হয় এই বিষয়টি তিনি কীভাবে দেখছেন৷ উত্তরে ক্রিকেটের ভগবান বলেন, ‘‘বিশ্বকাপে সবসময় পাকিস্তানকে পর্যদুস্ত করে এসেছে ভারত। আবার সময় এসেছে ওদের আরও একবার হারানোর। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না দুই পয়েন্ট দিয়ে প্রতিযোগিতায় ওদের সাহায্য করতে।’’ এরপর তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘তবে আমার কাছে ভারত, আমার দেশই সবার আগে। তাই আমার দেশ যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তাকে সমর্থন করব।’’ কেবল শচীনই নয়, একই কথা বলেন আরও এক কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটর সুনীল গাভাসকরও৷ শচীন এমনটা চাইলেও, তাঁর ঠিক বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন হরভজন সিং, আজহারউদ্দিনের মতো ক্রিকেট তারকারা। তাঁরা কিন্তু পাক ম্যাচ বয়কটের পক্ষে সওয়াল করেছেন৷

কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের এই ব্যক্তিগত মতকেই নিজের টক শো’তে হাতিয়ার করেন অর্ণব গোস্বামী৷ শচীন ও গাভাসকরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘আমি ভগবানে বিশ্বাস করি না৷ শচীন তেণ্ডুলকর ১০০ শতাংশ ভুল বলছেন৷ ওনার যদি সামান্যতম বুদ্ধি থাকত, তবে উনি প্রথম ব্যক্তি হতেন যে বলত, পাকিস্তানের সঙ্গে খেলব না৷ দ্বিতীয় ব্যক্তি হতেন গাভাসকর৷ অর্ণব আরও বলেন,‘‘এনারা বলছেন আমাদের দুই পয়েন্ট দরকার৷ দু’জনেই ভুল বলছেন৷ আমাদের দুই পয়েন্টের প্রয়োজন নেই৷ আমরা শহিদের বলিদানের প্রতিশোধ চাই৷ কোনও আস্তাকুঁড় থেকেও ওই দুই পয়েন্ট নিয়ে আসতে পারবেন তেণ্ডুলকর৷’’ এখানেই শেষ নয়, ‘গড অফ ক্রিকেট’ তেণ্ডুলকরকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও, তারই সমালোচনা করেন অর্ণব গোস্বামী৷ যা শোনার পর নিজেদের ঠিক রাখতে পারেননি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই অতিথি আশুতোষ ও সুধাংশু কুলকার্নি৷ কড়া ভাষায় অর্ণব গোস্বামীর সমালোচনা করে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে আসেন তাঁরা৷ সাংবাদিক অর্ণবের মন্তব্যকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে হইচই৷ প্রশ্ন উঠেছে শচীন, গাভাসকরের মতো মানুষরা বারংবার দেশের মাথা উঁচু করেছেন৷ তবে কীভাবে তাঁদের ‘দেশদ্রোহী’ বলতে পারলেন অর্ণব গোস্বামী?




Post a Comment

0 Comments