হোয়াটসঅ্যাপে চুরি ও খুনের গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিওর মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছিল। যার ফলে দুষ্কৃতী সন্দেহে পিটিয়ে মারার মত ঘটনা ঘটতে পারে। তারকনাথ উকিল নামে ওই যুবককে বৃহস্পতিবার রাতে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ। শুক্রবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক ধৃতকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারকনাথের বাড়ি খণ্ডঘোষ থানারই লোদনা পঞ্চায়েতের মেটেডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় বাস কন্ডাক্টর।


সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গুজবের জেরে গণপ্রহারের ঘটনা ঘটছে। এমনকী মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। বছর দুয়েক আগে পূর্ব বর্ধমানের কালনার বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে ছেলেধরা গুজবে বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। মৃতদের মধ্যে দুইজন নদিয়া জেলার শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার জেরে শান্তিপুরে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পথ অবরোধ করা হয়। তার পরেও কালনা মহকুমাতেও বেশ কয়েকটি এমন ঘটনা ঘটে। গুজবের জেরে মারধরে বেশ কয়েকজন জখম হন। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়াতেই এইভাবে ছেলেধরা গুজব রটানো হয়েছিল। সেই সময় জেলা পুলিশের তরফে প্রতিটি থানা এলাকায় মাইকে গুজব না ছড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রচার চালায় পুলিশ। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ কয়েকটি এলাকায় একইভাবে গুজবের জেরে গণপ্রহারের ঘটনা ঘটেছে

এরপরও পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের তরফে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালানো হয় গুজব না ছড়ানোর জন্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ওই থানার ভিলেজ পুলিশ ধনঞ্জয়ের হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিও পান তারকনাথের কাছ থেকে। সেই ভিডিওতে কয়েকজন মহিলার ছবি দেখিয়ে বলা হয়েছে, ‘এই অপরিচিত মহিলারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছে। ফাঁকা বাড়ি দেখলে ঢুকে পড়ছে। চুরি করছে এবং বাড়ির লোকজনকে খুন করে দিচ্ছে।’ এই ধরণের প্রচারে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানাভাবে প্রভাব ফেলছে। এই ভিডিও দেখে অনেকেই তা বিশ্বাস করে নিচ্ছেন বা নিতে পারেন। যার ফলে এলাকায় অপরিচিতদের উপর হামলা করে পিটিয়ে মেরে ফেলার মত ঘটনা ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।

পুলিশ তারকনাথের মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করেছে। যদিও ওই ভিডিও সে যার কাছ থেকে পেয়েছিল তা ডিলিট করে দিয়েছে। সত্যতা যাচাই না করেই ওই ভিডিও অনেককেই ফরওয়ার্ড করেছিল তারকনাথ। এই ভিডিও আর কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, গুজব ছড়ালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments