মাসুদ আজহার মৌলানা নয় শয়তান, তোপ দাগলেন ওয়েইসি

জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার কোনও মৌলানা নয়, একজন শয়তান। শনিবার মুম্বইয়ের একটি সভা থেকে এই মন্তব্য করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। এর পাশাপাশি পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ঘটনাকে মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


ভারিপ বহুজন মহাসংঘের সভাপতি প্রকাশ আম্বেদকরকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “পুলওয়ামার হামলা হল রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও গোয়েন্দা বুদ্ধিমত্তার ব্যর্থতা। আর মাসুদ আজহার কোনও মৌলানা নয়, একজন শয়তান। আর যে জঙ্গিরা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে তাদের বলতে চাই তোমরা জইশ-ই-মহম্মদ নও জইশ-ই-শয়তান। মহম্মদের একজন সৈনিক কখনওই কাউকে হত্যা করবে না। সে সব সময় মানবতার পথে থাকবে। তোমরা জইশ-ই-শয়তান, জইশ-ই-ইবলিশ। মাসুদ আজহার তুমি একজন মৌলানা নও তুমি শয়তানের শিষ্য। আর লস্কর-ই-তইবা নয় ওটা হল লস্কর-ই-শয়তান।”

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নির্দোষের মুখোশ খুলে রাখারও পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, “আমরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই টিভি ক্যামেরার সামনে বসে আপনি যা বলেছেন তা ভারতকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন না। কারণ এটাই প্রথম নয়, এর আগে পাঠানকোট ও উরি আর এখন পুলওয়ামা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলছি মুখোশ পরে তিনি যে নির্দোষ সাজার চেষ্টা করছেন তা বন্ধ করুন।”

পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে তাঁর বক্তব্য, “এই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ আছে। আসলে এটা পাকিস্তানের সরকার, সেনা ও আইএসআই-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়েছে। প্রতিবেশী দেশের ভারতীয় মুসলমানদের জন্য ভীত হওয়ার কিছু নেই। কারণ তাঁরা মহম্মদ আলি জিন্নাকে এড়িয়ে যেতেই চেয়েছিলেন। তাই ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তাঁর কথা মতো পাকিস্তানে না গিয়ে ভারতেই থেকে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানের জেনে রাখা দরকার যখনই দেশের প্রসঙ্গ আসবে তখন আমরা সব ভারতীয়রাই এক। দেশের মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ মনোভাবই তাদের ঈর্ষান্বিত করেছে।”

কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের এক মন্ত্রী ভারতে থাকা মন্দিরগুলির ঘণ্টা বাজানো বন্ধ করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন। সেই কথা উল্লেখ করে আসাদউদ্দিন বলেন, পাকিস্তানের ওই মন্ত্রী ভারতকে চেনেন না। এখানকার মুসলিমরা এখনও জীবিত আছে। এখানে মসজিদ থেকে যেমন আজানের শব্দ পাওয়া যায় তেমনি মন্দিরে বাজে ঘণ্টা। ভারতের এই সুন্দর দৃশ্যই প্রতিবেশী দেশকে ঈর্ষান্বিত করেছে। আসলে আমাদের দেশের মানুষ নিজের মতো বসবাস করে। কিন্তু, যখন দেশের প্রসঙ্গ আসে তখন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়।

মহারাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র মুম্বইয়ের দাঁড়িয়েই গতকাল শাসক বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, বিজেপি ও কংগ্রেস যাতে ফের ক্ষমতায় না আসে তা নিশ্চিত করার এটাই শেষ সুযোগ। মুসলমানদের কংগ্রেসকে সমর্থন করা উচিত নয়, কারণ আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য সমস্যা তৈরি করা ছাড়া তারা আর কিছুই করেনি।

গতকালের সভা থেকে মহারাষ্ট্রের খরাপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতির জন্য বিজেপি সরকারকে দায়ী করেন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করা ভারিপ বহুজন মহাসংঘের প্রধান প্রকাশ আম্বেদকর। তিনি বলেন, “তাপ্তী নদীর জল গুজরাটকে না দিয়ে মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া এলাকায় সরবরাহ করা হলে সেখানকার পরিস্থিতি খারাপ হত না। ঔরঙ্গাবাদের জল সমস্যারও সমাধান হত। সরকারের উদাসীনতার জন্য় রাজ্যে থাকা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের অবস্থাও খুব সঙ্গীন হয়ে পড়ছে। আমরা ক্ষমতায় এলে এই সমস্যার সমাধান করব।”

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামার অবন্তিপোরায় সিআরপিএফ কনভয়ের উপর হামলা চালায় আত্মঘাতী জইশ জঙ্গি। এর জেরে শহিদ হন ৪৯ জন জওয়ান। তারপর থেকেই ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার বার্তা দিয়েছে গোটা বিশ্ব। পাকিস্তানকে কড়া শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে দেশের সেনা বাহিনীকে বদলা নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে নিষেধ করেছে আমেরিকাও। পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘেও পাশ হয়েছে নিন্দা প্রস্তাব। এই অবস্থায় ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মনোভাব পাকিস্তান সম্পর্কে ঠিক কী তার ফের একবার স্পষ্ট করে দিলেন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।

Post a Comment

0 Comments