আইএসএলে খেলার জন্য ফ্র‌্যাঞ্চাইজি ফি দেবে না দুই প্রধান

ঞ্চাইজি ফি দিয়ে আইএসএল খেলবে না বলে জানিয়ে দিল কলকাতার দুই প্রধান ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান। তা হলে পথ? যদি এরপরেও আইএসএল খেলার জন্য এফএসডিএল কলকাতার দুই প্রধানকে ফ্রাঞ্চাইজি ফি দিতে বাধ্য করে, তাহলে আইএসএল নয়, ফের আই লিগ খেলবে দুই প্রধান। শুক্রবার রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে মিটিংয়ের পর এরকমই জানিয়ে দিলেন দুই প্রধানের কর্তারা।

আইএসএল খেলার জট কাটানোর জন্য এদিন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল দুই প্রধান। মোহনবাগানের সহ-সচিব সৃঞ্জয় বোস, অর্থ সচিব দেবাশিস দত্ত ও ইস্টবেঙ্গলের কার্যনির্বাহি কমিটির অন্যতম সদস্য দেবব্রত সরকার। ছিলেন আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সঙ্গে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। দুই প্রধানের কর্তারাই ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে বুঝিয়ে বলেন, আইএসএল-এ খেলার জন্য কী ভাবে বাংলার দুই ক্লাবকে হেনস্তা করা হচ্ছে। কেন প্রতি বছর বাংলার দুই ক্লাব ১৫ কোটি টাকা ফ্র‌্যাঞ্চাইজি ফি দিয়ে আইএসএলে খেলবে?

দেবব্রত সরকার বলেন, “আমরা কী ফ্র‌্যাঞ্চাইজি দল? অন্যান্যদের সঙ্গে আমাদের গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে কেন? আমাদের কোম্পানি কোয়েসের পক্ষ থেকেও ফেডারেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ফ্র‌্যাঞ্চাইজি ফি দিয়ে আইএসএল খেলব না।” তাহলে কি দুই প্রধান পরের মরশুমে আইএসএল খেলবে না? দেবাশিস দত্ত বলেন, “আমরা বলিনি খেলব না। কিন্তু সম্মান খুইয়ে নয়। কোনও ফ্র‌্যাঞ্চাইজি ক্লাবের ১০০ কোটি টাকা থাকতে পারে। আমাদের রয়েছে ১০০ বছরের ইতিহাস। দুটো বিষয়কে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।”একটা টুর্নামেন্টে দু’রকম নিয়ম কেন? দেবাশিস বললেন, “মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে ছাড়া ভারতীয় ফুটবল অচল। আইএসএল বাঁচানোর জন্যই দুই প্রধানকে দরকার। তাহলে আমরা কেন সম্মান খুইয়ে ফ্র‌্যাঞ্চাইজি ফি দিয়ে খেলব। আমাদের খেলালে আমাদের দাবি মেনেই খেলাতে হবে।”

পরে দেবব্রত বললেন, “মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধের চিঠি মুকেশ আম্বানির কাছে গিয়েছে। আমরা সেই চিঠির উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি। এদিন ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে বসলাম। যা হবে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই হবে।” এফএসডিএল যদি রাজি না হয়? দেবাশিস বললেন, “তাহলে আই লিগ খেলব। আইএসএলকে দেশের সেরা লিগ ঘোষণা করলে, যেখানে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল খেলবে, সেটাই সেরা লিগ। সেরকম হলে আন্দোলন তীব্র আকার নেবে।” সভা শেষে ক্রীড়ামন্ত্রী বললেন, “বাংলার ফুটবলের উন্নতির জন্য ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান-মহামেডান সব ক্লাবের পাশেই আমরা আছি। আমরা চাই বাংলার ফুটবলের উন্নতি।”

Post a Comment

0 Comments