তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার অর্থ বিজেপি-কে ভোট দেওয়া: মিশ্র

যে’কটা দিন হাতে রয়েছে, আমাদের ইশ্‌তেহার নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। সামনের নির্বাচনে রাজ্যে বামপন্থীদের ওপর এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব বর্তেছে। সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর রবীন্দ্রভবনে সিপিআই(এম) জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মীসভায় একথা বললেন পার্টির রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র।

বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট প্রার্থী রণেন বর্মণের সমর্থনে এই নির্বাচনী কর্মীসভায় পার্টির রাজ্য সম্পাদক বললেন, নির্বাচনে বিজেপি-কে ভোট দেওয়া আর তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার মধ্যে কোনও ফারাক নেই। খোদ তৃণমূলনেত্রী ইতিমধ্যেই রাজ্যে দশ-বারোটা আসন বিজেপি-কে ওয়াক-ওভার দিতে চেয়েছেন। বিশেষত উত্তরবঙ্গকে বিজেপি’র হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। কেননা বাংলাকে বিজেপি ভাগ করতে চায়, আর সেই লক্ষ্যে রাজ্যের শাসকদলেরই প্রছন্ন মদত রয়েছে। কেন্দ্রের শাসক আর রাজ্যের শাসক এক নকল লড়াইয়ে নেমেছে। কিন্তু এরা কেউই কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ার প্রশ্ন তোলে না, বেকার কর্মক্ষম যুবক-যুবতীদের চাকরি পাওয়ার প্রসঙ্গ ভুলেও আওড়ান না। শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১৮হাজার টাকা করার দাবি তোলে না, কর্মচারীরা কেন মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন না সে প্রশ্ন তোলে না। যে দাবিগুলি, বিকল্প লড়াইয়ের কথা একমাত্র বামপন্থীরাই আন্দোলনের মাঠে-ময়দানে তুলে নিয়ে যায়। এদিন বামফ্রন্ট কর্মী সমর্থকদের এই সভাতেই সূর্য মিশ্র বললেন, প্রতিটি বুথে মানুষকে নিয়ে ব্রিগেড গড়তে হবে আমাদের। হাতে গোনা দিনগুলিতেই দলমত নির্বিশেষে মানুষকে নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হতে হবে। লড়াইয়ের জন্য বামপন্থীরা প্রস্তুত রয়েছেন।

এদিন গঙ্গারামপুরের রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত বামফ্রন্টের কর্মীসভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পার্টিনেতা মানবেশ চৌধুরি, প্রার্থী রণেন বর্মণ প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির জেলা সম্পাদক নারায়ণ বিশ্বাস। এদিন কর্মীসভা শুরুর আগে গঙ্গারামপুর শহরে এক বিশাল মিছিল সংগঠিত হয় বামপন্থীদের উদ্যোগে। রবীন্দ্রভবনের এই সভায় সূর্য মিশ্র বলেন, দিল্লির মসনদ থেকে বিজেপি সরকারটাকে হটানোর পরদিনই এরাজ্যের শাসক তৃণমূলের শক্তি কমতে থাকবে। আর সামনের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারের পতন নিশ্চিত। কেন্দ্রে একটা ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠনের লক্ষ্যে এরাজ্যে বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী ভোটকে এক জায়গায় জড়ো করা জরুরি।

তৃণমূল-বিজেপি জোট প্রসঙ্গেই এদিন মিশ্র বলেন, পাঁচ বছর তদন্ত গড়িয়ে গেলেও সারদা, নারদ কেলেঙ্কারিতে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অপরাধীদের কোনও শাস্তি হয় না। শুধু লোক দেখানো পদক্ষেপে ভুবনেশ্বরের জেলে কিছুদিনের জন্য হাওয়া খেয়ে আবার জামিন পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। আমরা এসব নাটক দেখতে রাজি নই। তাই জেলায় জেলায় আন্দোলন গড়ছি চোর ধরো, জেল ভরো আর প্রতারিত মানুষের টাকা ফেরত দাও —এই দাবি তুলে। লড়াইয়ের ময়দানে বামপন্থীরা অতীতেও শামিল ছিলেন, আগামীদিনেও থাকবেন।

এই কর্মীসভাতেই সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক বলেন, ইদানীং তৃণমূলনেত্রী বক্তৃতা করার সময়ে সামনে বা ডান-বাঁয়ে দেখছেন না। বরং তিনি আপাতত সভামঞ্চের পেছনের দিকেই বেশি তাকাচ্ছেন। সবাই আছে তো? দলবদলের হিড়িকে তৃণমূলের ঘর ভেঙেই বিজেপি ঘর গুছোতে শুরু করেছে। কেননা নীতিগতভাবে এই দুটোই একইরকম জনগণের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রে বিজেপি যেমন রাফালে বিমান কেলেঙ্কারিতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিতে অভিযুক্ত, তেমনই এরাজ্যের শাসকদল সারদা, নারদ কেলেঙ্কারিতে মানুষের যাবতীয় সঞ্চিত সম্পদ লুট করেছে। না, একজন বামপন্থী নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিবিআই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্ত শুরু করতে পারেনি। সারা বিশ্বের দশজন ধনী ব্যক্তির মধ্যে এখন আম্বানি। কেন এত সম্পদ লুট করে পাহাড় জমানো হয়েছে তার জবাব দিতে পারবে না কেন্দ্রের মোদী সরকার।

Post a Comment

0 Comments