ইডেনে আজ নিজের সঙ্গেই লড়াইয়ে হাজির থাকবেন শাহরুখ

ইডেনে প্রথম ম্যাচ বলে কি টেনশনটা একটু বেশি? ফোনের ওপ্রান্ত থেকে রোমি সাহা বললেন, ‘সেটা বলতে পারেন।’ ইনি ঋদ্ধিমান সাহার স্ত্রী। রবিবার ইডেনে আসছেন না। বাড়িতে বসেই ম্যাচটা দেখবেন। রোমি বলছিলেন, “ইডেনে কেকেআরের বিরুদ্ধে ওর রেকর্ড ভাল। তবু টেনশন হয়। বাড়িতে বসেই ম্যাচটা দেখব। আর ঋদ্ধিকেও বলেছি, ক্লাবের হয়ে খেলছো ভেবেই মাঠে নেমো। আলাদা কিছু ভাবার দরকার নেই। কেকেআরকে হারাতে পারলে দারুণ হবে।”

ঋদ্ধিমান সাহা কেকেআরে খেলেছেন তিন বছর। শুধু ঋদ্ধি একা নন, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের এই টিমে এমন কয়েকজন রয়েছেন যাঁরা একটা সময় কেকেআরে ছিলেন। মণীশ পাণ্ডে তিনবছর। ইউসুফ পাঠান, সাকিব উল হাসান আরও অনেক বেশি। সাতবছর। শনিবার সকালে বাইপাস সংলগ্ন হোটেলে তাই হয়তো কেকেআর প্রসঙ্গ উঠতেই হাসিখুশি ইউসুফ পাঠানও গম্ভীর হয়ে গেলেন। বলছিলেন, “আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। আজ একটা টিমে খেলবো তো কাল অন্য টিমে। কেকেআরের বিরুদ্ধে খেলব বলে আলাদা কিছু নেই।” সঙ্গে জুড়ে দিলেন, “কেকেআরে অনেক বছর খেলার জন্য ওদের মাইন্ডসেট, শক্তিগুলো আমার জানা। এটা যেমন সুবিধা। তেমনই আমাদের শক্তিগুলোও ওরা জানে।” পাঠান মুখে যাই বলে যান না কেন, কে বলতে পারে রবিবার বিকেলে বেগুনি জার্সির বিরুদ্ধে নামার সময় বাড়তি অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ হবে না!

তবে দীনেশ কার্তিকদের শিবিরের চিন্তা দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রশিদকে নিয়ে। জানা গিয়েছে, ইডেনের পিচে হালকা ঘাস রয়েছে। পেসাররা সুবিধা পাবেন। স্পিনাররা বাউন্স পাবেন। তবে খুব বেশি টার্ন করবে না। এমন উইকেটে রশিদ কতটা খতরনাক হয়ে উঠতে পারেন, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

১৪ এপ্রিল ২০১৮-র ছবিটা এখনও টাটকা। সেদিন প্রাক্তন নাইটদের হাতেই রক্তাক্ত হতে হয়েছিল কেকেআরকে। এবার হায়দরাবাদ আরও শক্তিশালী। একবছর নির্বাসন কাটিয়ে ফিরছেন ডেভিড ওয়ার্নার। পাঠান বললেন, “ওয়ার্নার দুর্দান্ত ক্রিকেটার। ও এমন একজন ব্যাটসম্যান যে শুরু থেকেই শট খেলে। অনেক দিন পর আবার ফিরছে। ও যেমন মুখিয়ে রয়েছে। আমরাও ঠিক একইভাবে তাকিয়ে রয়েছি।”
নিজের ফর্ম নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট বরোদার অলরাউন্ডার। সেই প্রসঙ্গে বলে গেলেন, শুধু ব্যাট নয়, বোলিংটাও নিয়মিত করছেন। বলছিলেন, “আইপিএল খুব বড় একটা টুর্নামেন্ট। আমি এখানে সবসময় ভাল পারফর্ম করে এসেছি। এবার পুরো রনজি ট্রফি খেলেছি। বিজয় হাজারে আর সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-২০ খেলে আইপিএলের প্রস্তুতি সেরেছি। ফিটনেসের উপর ফোকাস করেছিলাম। লক্ষ্মণ ভাইয়ের সঙ্গে সবসময় কথা হত। ওঁ আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছেন। আর বোলিংয়ের কথা জিজ্ঞেস করছিলেন না? ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত বোলিংও করেছি। এমন অনেক ম্যাচ গিয়েছে যেখানে ২৬-২৭ ওভার বল করতে হয়েছে। প্রস্তুতি দারুণ হয়েছে। এবার শুধু ডেলিভার করতে হবে।”

এতক্ষণ তো একটা কথাই বলা হয়নি। কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, রবিবার ম্যাচ দেখতে আসছেন শাহরুখ খান। যার অর্থ রবিবাসরীয় ইডেনে বলিউড বাদশার সামনে শুধু কেকেআর বনাম সানরাইজার্স হচ্ছে না, একইসঙ্গে আরও একটা ম্যাচও চলবে। নাইট বনাম নাইট! তবে স্বস্তি একটাই। হাওয়া অফিসের তরফে এদিন বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই।

Post a Comment

0 Comments