ফোটোকপি করাও চুরি! রাফালে হলফনামা

প্রথমে ছিল, রাফাল ফাইল চুরি হয়েছে। তার পর বলা হল, রাফাল ফাইল চুরি হয়নি। এ বার মোদী সরকারের নতুন অবস্থান, রাফাল ফাইল থেকে অনুমতি ছাড়া ফোটোকপি করাটাও চুরি। প্রতিরক্ষাসচিব সঞ্জয় মিত্র আজ সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানালেন, অনুমতি ছাড়া গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির নথি ফোটোকপি করে নেওয়াটা চুরিই। এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গোপন নথি প্রকাশ্যে আসায় জাতীয় সুরক্ষা বিপদের মুখে পড়েছে। কারণ এই নথি শত্রু-রাষ্ট্রের হাতেও পৌঁছে গিয়েছে।


রাফাল নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে দর কষাকষিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরও নাক গলানোয় আপত্তি তুলেছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্তারা। রাফাল ফাইলের সেই অংশ সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়। রাফাল-চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে অবশ্য মামলা হয় এর আগেই। সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের দাবি নাকচ করে দেয়। কিন্তু ফাইলের ওই অংশকে হাতিয়ার করেই রায় পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন যশবন্ত সিন্‌হা, অরুণ শৌরি, প্রশান্ত ভূষণেরা।আগামিকাল রাফাল মামলার শুনানি। তার আগে কেন্দ্র আজ নতুন হলফনামায় দাবি করল, সরকারি গোপনীয়তা আইন অনুযায়ী এ সব গোপন নথি। রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি থেকে ওই নথি বাদ দেওয়া হোক। এই নথি প্রকাশ্যে আসায় ফ্রান্সের মতো মিত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব পড়বে বলে কেন্দ্রের যুক্তি।

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল দাবি করেছিলেন, রাফাল ফাইল চুরি হয়েছে। প্রশ্ন ওঠে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সুরক্ষিত এলাকা থেকে কী ভাবে চুরি হল? তার দায় কে নেবে? বেণুগোপাল এর পরে বয়ান বদলে জানান, রাফাল ফাইল চুরি হয়নি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন তার ব্যাখ্যায় বলেন, ‘‘ফাইল থেকে ফোটোকপি করে নেওয়া হয়েছে।’’ প্রতিরক্ষাসচিব আজ সেই সুরেই জানিয়েছেন, কী ভাবে গোপন নথি ফাঁস হল, তা দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই ফাইলকে কাজে লাগিয়ে আদালতকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা হচ্ছে। ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর চেষ্টা হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments