রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত উলুবেড়িয়া, ভোটের আগে ফের খুন তৃণমূল কর্মী

লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই  আবারও রাজ্যে খুন হলেন এক তৃণমূল কর্মী৷ এবার ঘটনাস্থল উলুবেড়িয়ার রাজাপুর থানার কমলাচক৷ এই ঘটনার নেপথ্যে গেরুয়া শিবিরের ইন্ধন রয়েছে বলেই অভিযোগ শাসকদলের৷ যদিও বিজেপির খুনের তত্ত্ব মানতে নারাজ৷ তাঁদের পালটা দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব৷

গোবিন্দ প্রামাণিক নামে ওই ব্যক্তি উলুবেড়িয়ার কমলাচকের বাসিন্দা৷ পেশায় অটোচালক ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত৷ শনিবার রাত ন’টা নাগাদ অটো চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বছর পঁয়ত্রিশের গোবিন্দ৷ অভিযোগ, সেই সময় বেশ কয়েকজন যুবক তাঁর পথ আটকায়৷ সকলেরই হাতে ছিল লাঠিসোঁটা এবং ধারালো অস্ত্রশস্ত্র৷ জোর করে থামান হয় গোবিন্দর অটো৷ অটো থেকে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে৷ চিৎকার-চেঁচামেচিতে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে যান৷ গোবিন্দকে রাস্তায় ফেলে রেখেই পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা৷ রক্তাক্ত অবস্থায় গোবিন্দকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা৷ তড়িঘড়ি তাঁকে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তবে ততক্ষণে সব শেষ৷ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ কে বা কারা খুন করল গোবিন্দকে, তা নিয়ে চলছে অভিযোগ-পালটা অভিযোগের পালা৷

নিহতের পরিজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি নেতাকর্মীরা হুমকি দিত তাঁকে৷ প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে গোবিন্দকে৷ তাই তাঁদের সন্দেহ খুনের নেপথ্যেও রয়েছে গেরুয়া শিবিরের ইন্ধন৷ স্থানীয় তৃণমূল নেতানেত্রীর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে এলাকায় আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি করার জন্যই গোবিন্দকে খুন করিয়েছে বিজেপি৷ যদিও গেরুয়া শিবিরের তরফে এই অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে৷ বরং গোবিন্দর খুনের পিছনে শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দলকেই দায়ী করছে বিজেপি৷

রাজাপুর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহত গোবিন্দের পরিজনরা৷ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, লাঠি এবং ধারালো অস্ত্রের কোপেই মারা গিয়েছেন ওই তৃণমূল কর্মী৷ তবে ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক বিবাদে খুন করা হয়েছে গোবিন্দকে, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ আপাতত ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা৷


Post a Comment

0 Comments