রমজানেই পাকিস্তানে ফের ‘ফ্র্যাঙ্কেস্টাইনের’ থাবা, বিস্ফোরণে মৃত ৬

সৃষ্টিকর্তাকেই ধ্বংস করেছিল ‘দানব’ ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন৷ ঠিক একইভাবে ফের পাকিস্তানকে রক্তাক্ত করল আইএসআইয়ের তৈরি জেহাদিরা৷ বুধবার লাহোরে একটি সুফি ধর্মস্থলে ভয়াবহ বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা৷ ঘটনায় এপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ছয় জনের৷ আহত বহু৷


পাক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, লাহোরে দাতা দরবার নামে একটি সুফি ধর্মস্থানে বিস্ফোরণটি ঘটেছে৷ পাঞ্জাব পুলিশের একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় জঙ্গিরা৷ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চার পুলিশকর্মী৷ আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন৷ আহতদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ তবে এই প্রথম নয় এর আগে ২০১০ সালেও ধর্মস্থানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল জেহাদিরা৷ সেবারে প্রাণ হারিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ৷ শুধু হিন্দু বা শিখ নয়, পাকিস্তানে বরাবর সুফি, হাজারা ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালিয়ে এসেছে জঙ্গিরা৷ ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলেও হাজারা ও সুফিদের কখনওই মুসলমান বলে মেনে নেয়নি সুন্নি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি৷ আইএসআইয়ের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা ওই জঙ্গি সংগঠনগুলিই আজ পাকিস্তানের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

এদিকে, বিস্ফোরণের পর ঘিরে ফেলা হয়েছে সমস্ত এলাকা৷ জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে সেনা ও পুলিশের যৌথবাহিনী৷ আহতদের তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সিন্ধ প্রদেশের বিখ্যাত লাল শাহবাজ কলন্দর নামের সুফি দরগায় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৮০ জন নিরীহ মানুষ। তারপরই অভিযানে প্রায় ১০০ জঙ্গিকে নিকেশ করেছিল পাক সেনা৷ বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতকে জেরবার করতে যে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে তৈরি করেছিল পাকিস্তান তারাই এখন পাক সেনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে৷ ২০০৭ সালে ইসলামাবাদের লাল মসজিদে যেভাবে জেহাদিরা পাক সেনার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়েছিল, তাতেই রাওয়ালপিণ্ডির পরিস্থিতি সাফ হয়ে গিয়েছিল৷

Post a Comment

0 Comments