কুলদীপের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণের চার্জ গঠন আদালতে

অবশেষ চার্জ গঠন হল উন্নাও ধর্ষণ মামলার মূল অভিযুক্ত কুলদীপ সিং সেনেগারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দিল্লির তিস হাজারি আদালতে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে চার্জ গঠন করা হল ২০১৭ সালের ওই ধর্ষণের ঘটনার। জেলবন্দি বিধায়কের পাশাপাশি মেয়েটিকে ধর্ষণ ও অপহরণের চার্জ গঠন করা হয়েছে তার অনুগামী শশী সিংয়ের নামেও। শুক্রবার তাদের নামে চার্জ গঠন করেন তিস হাজারি আদালতের জেলা বিচারক ধর্মেশ শর্মা।


অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অপহরণ, জোর করে একটি মহিলাকে বিয়েতে বাধ্য করার চেষ্টা ও ধর্ষণ-সহ পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় চার্জ গঠন করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার আদালতে সিবিআই জানায়, ধর্ষণের ঘটনার পর নির্যাতিতার বাবাকে মারধর করে জেলবন্দি সেনেগার ও তার ভাই। পরে অস্ত্র আইনে নির্যাতিতার বাবার নামে একটি মামলাও দায়ের করে তারা। এই কাজে তাদের সাহায্য করেছিল তিনজন পুলিশকর্মী-সহ
আরও আটজন। ওই ব্যক্তির নামে মিথ্যে মামলা সাজানোর জন্য একটি দেশীয় পিস্তল ও চারটি তাজা কার্তুজ জোগাড় করে তারা। পরে পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে নির্যাতিতার বাবার নামে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে।

গত বুধবার আদালতে অভিযুক্ত বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে জানায় সিবিআই। ২০১৭ সালে আরেক অভিযুক্ত শশী সিংয়ের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সেনেগার তাঁকে ধর্ষণ করেছিল বলে অভিযোগ উন্নাওয়ের নির্যাতিতার। এই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করে তারা। এরপরই শুক্রবার কুলদীপ সিং সেনেগার ও তার অনুগামী শশী সিংয়ের নামে চার্জ গঠন হল আদালতে।

গত ২৮ জুলাই জেলবন্দি কাকাকে দেখতে দুই কাকিমা ও আইনজীবীর সঙ্গে রায়বরেলি যাচ্ছিলেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা। রাস্তায় উলটোদিক থেকে একটি ট্রাক এসে সজোরে ধাক্কা মারে তাঁদের গাড়িতে। এর জেরে দুর্ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় নির্যাতিতার দুই কাকিমার। তারপর থেকে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভরতি ছিলেন নির্যাতিতা ও তাঁর আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেখান থেকে মঙ্গলবার তাঁদের এয়ারলিফট করে দিল্লির এইমস হাসপাতালে নিয়ে এসে ভরতি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই ভরতি আছেন তাঁরা।

Post a Comment

0 Comments