খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কান্ডে সাজা ঘোষনা,ছয় থেকে দশ বছর জেল

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় রায় ঘোষণা করল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। আদালত ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল কয়েকদিন আগে । আজ সাজা ঘোষণা করল বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল। দোষী দুই মহিলা আলিমা এবং গুলশনরা ৬ বছরের জেল। গুলশনরা আগে কোনও অপরাধমূলক কাজ করেনি তাই সে চাইলে হাই কোর্টে আপিল করতে পারবে। শেখ রেহমাতুল্লা, সহিকুল ইসলামের ১০ বছরের কারাদণ্ড। আবদুল হাকিম, মহম্মদ রেজাউল করিমের ৮ বছরের জেল। সঙ্গে ২০হাজার টাকা জরিমানাও হয়েছে তাদের। অনাদায়ে এক বছরের জেল হবে দোষীদের। যাদের একাধিক সাজা হয়েছে, তাদের সব সাজা একসঙ্গে চলবে। এদের মধ্যে সবাই পুলিশ বা জেল হেফাজতে কাটিয়েছেন। সাজা থেকে সেই হেফাজতের মেয়াদ বাদ যাবে।

মামলায় দোষী গুলশনরা বিবি এবং আলিমা বিবির ৬ বছরের কারাদণ্ড। এই দুই মহিলা আগে কোনও অপরাধমূলক কাজ করেনি, তাই তারা হাই কোর্টে আবেদন করতে পারবে। শেখ রেহমাতুল্লা, সহিকুল ইসলামের ১০ বছরের কারাদণ্ড। আবদুল হাকিম, মহম্মদ রেজাউল করিমের ৮ বছরের জেল। প্রত্যেকেরই ২০হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। অনাদায়ে এক বছরের জেল হবে দোষীদের। এছাড়াও এই মামলায় দোষী আমজাদ আলি শেখ, জিয়াউল হক, মহম্মদ সাহানুর আলম, হবিবুর রহমান, ফইজুল হক, গিয়াসুদ্দিন মুন্সি, মোফাজ্জল আলি, মতিউর রহমান, আবদুল ওয়াহাব মোমিন, নুরুল হক মণ্ডল, হাবিবুল হক, বুরহান শেখ এবং কদর গাজি।

অভিযুক্তদের আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে দোষীদের। তবে হাইকোর্টে যাবে কিনা, তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্য দিকে এনআইএ–র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ বলেন, ‘‘আমরা সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছিলাম। তবে আদালত যা রায় দিয়েছে, তা মাথা পেতেই নেওয়া উচিত।’’

দোষীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, দেশদ্রোহিতা, ইউএপিএ, অস্ত্র আইন–সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশি চার জনের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টেও মামলা রুজু করেছিল এনআইএ। এই ধারাগুলিতে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন এবং সর্বনিম্ন পাঁচ বছর। কিন্তু দোষীরা সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চাওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় দেওয়ার পর বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল বলেন, আপনারা দ্রুত সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসুন।

আদালত সূত্রে খবর, দোষী ১৯ জনই সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চায় বলে জানিয়ে সর্বনিম্ন সাজার আর্জি জানায়। তাদের বক্তব্য, সবারই পরিবার ও সন্তানসন্ততি রয়েছে। তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও কর্তব্য রয়েছে। সেই কারণেই তারা সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চায়। আর এই যুক্তিতেই সবচেয়ে কম সাজার আর্জি জানায় তারা।

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর অষ্টমীর দিন বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল শাকিল গাজি নামে এক ব্যক্তির। গুরুতর আহত ছিল করিম শেখ নামে আরও এক জন। প্রথমে জেলা পুলিশ পরে সিআইডি এবং সব শেষে ঘটনার তদন্তভার নিয়েছিল এনআইএ।

তদন্তে নেমে এনআইএ এখনও পর্যন্ত মোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করেছে। তার মধ্যে ১৯ জন সম্প্রতি বিচারকের কাছে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন নিজেদের দোষ কবুল করে নেয়। সেই ১৯ জনেরই এ দিন সাজা ঘোষণা করবে নগর ও দায়রা আদালত। মামলার চার্জ গঠন ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। এনআইএ সূত্রে খবর, মোট ৮০০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে গোটা পর্বে।

Post a Comment

0 Comments