ঠান্ডা লড়াইয়ের বিভীষিকা ফিরিয়ে মার্কিন সীমান্ত ঘেষে উড়ল আণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী রুশ যুদ্ধবিমান

ঠান্ডা লড়াইয়ের বিভীষিকা ফিরিয়ে মার্কিন সীমান্ত ঘেষে উড়ল আণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী রুশ যুদ্ধবিমান৷ দেশের সুদূর পূর্বপ্রান্তে আমেরিকার সীমানা ঘেষে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে রুশ সেনা৷ তারই অঙ্গ হিসেবে রাশিয়ার চুকতকা অঞ্চলে পৌঁছায় দু’টি টুপলেভ টি ইউ-১৬০ যুদ্ধবিমান৷ ওই অঞ্চলের উলটো দিকেই অবস্থিত আলাস্কা৷ মার্কিন দোরগোড়ায় রুশ পারমাণবিক মিসাইল বহনে সক্ষম বিমান পৌঁছে যাওয়ায় চড়ছে উত্তেজনা৷


রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এই গোটা সপ্তাহজুড়ে চুকতকা অঞ্চলে সামরিক মহড়া চলবে৷ এরই অঙ্গ হিসেবে দেশটির পশ্চিম অঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটি থেকে উড়ান ভরে দু’টি  টুপলেভ টি ইউ-১৬০ যুদ্ধবিমান৷ রাতের অন্ধকারে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আমেরিকার আলাস্কার সীমান্তের এপারে রুশ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায় বিমানগুলি৷ উল্লেখ্য, সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলেই  সুপারসনিক টিইউ-১৬০ বিমানগুলি নির্মাণ করা হয়৷ ১২টি স্বল্পদৈর্ঘের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এগুলি। একবার জ্বালানি ভরে এই বিমানগুলি বিরামহীনভাবে ১২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে।

ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় মার্কিন সেনাঘাঁটিতে আণবিক মিসাইল হামলার উদ্দেশ্যে টুপলেভ টি ইউ-১৬০ বিমানগুলি তৈরি করে সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ বিরামহীনভাবে উড়ান ভরার ক্ষমতায় বলীয়ান হয়ে লালফৌজের সুদূর ঘাঁটি থেকে আমেরিকায় হামলা চালানোর ক্ষমতা ছিল বিমানগুলির৷ এদিকে, সোভিয়েতের পতনের পরও রুশ বায়ুসেনায় রয়েছে বিমানগুলি৷ সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে একাধিক ইস্যুত মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে৷ কয়েকদিন আগেই ঐতিহসিক আইএনএফ মিসাইল চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় আমেরিকা। ফলে দুই মহাশক্তির মধ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে৷

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ আইএনএফ চুক্তিতে সই করেন। এ চুক্তির আওতায় পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ৫০০ কিলোমিটার থেকে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার সব ধরনের ক্রুজ মিসাইল নিষিদ্ধ করা হয়। তবে পরিবর্তিত সময়ে রুশ সামরিক বাহিনীর হৃতগৌরব ফিরে পেতে উঠেপড়ে লেগেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। একের পর এক দুরপাল্লার ও আণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম মিসাইলের পরীক্ষা করে চলেছে রুশ সেনা। সম্প্রতি ইস্কান্দার ও হাইপারসনিক এভানগার্ড মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে রাশিয়া। তারপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে আরও চিড় ধরেছে।

Post a Comment

0 Comments