কাঁকিনাড়ায় হিংসার জন্য দায়ী অর্জুন সিং, বলল পুলিশ

কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়ার হিংসা, শান্তি বিঘ্নিত করতে “পুরোপুরি পরিকল্পিত” বলে সোমবার এমনটাই দাবি করল পুলিশ, পাশাপাশি পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলার পিছনে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংকেই দায়ী করল তারা। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে দলীয় কার্যলয় দখলকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জ্ঞানবন্ত সিং একটি বিবৃতিতে বলেন, “তাঁর (অর্জুন সিং) বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকেই অশান্তির খবর এসেছে। সংঘর্ষের ধরণ দেখে, সেখানে শান্তি বিঘ্নিত করে সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে”। ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মোনজ বার্মা ও তাঁর টিমের প্রশংসা করেন রাজ্য পুলিশের এডিজি।

রবিবারের হিংসার ঘটনায় প্রায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান রাজ্য পুলিশের এডিজি জ্ঞানবন্ত সিং। তিনি বলেন, “যেভাবে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর এবং বোমা ছুঁড়ছিল, আমি মনে করি, পুলিশ যদি মেজাজ হারাত, পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করত”।

বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং-এর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা তাঁদের দলীয় কার্যলয় “দখল” করে নেওয়ার প্রতিবাদে  কাঁকিনাড়ায় “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ” করছিলেন তাঁরা, সেই সময় তাঁকে আঘাত করেন মনোজ বার্মা, ফলে মাথায় ক্ষত তৈরি হয় তাঁর।

বিজেপি সাংসদের দাবি খারিজ করে এডিজি বলেন, “টিভি ফুটেজ রয়েছে, কীভাবে অর্জুন সিং-এর নেতৃত্বে পুলিশের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে...হঠাৎই (হিংসা চলাকালীন), তাঁরই দলের এক কর্মীর ছোঁড়া পাথর তাঁকে আঘাত করে। কমিশনার কখনই তাঁর ওপর লাঠিচার্জ করেননি”।

রাজ্য পুলিশের এডিজি আরও জানান, গত দুমাসে এলাকায় শান্তি বজায় রেখেছেন মনোজ বার্মা। তিনি বলেন, “১৫০ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছেন তিনি এবং ভাটপাড়া এবং জগদ্দলের মতো ছোটো এলাকা থেকে তিনি প্রায় ৩০০-এর বেশী বোমা উদ্ধার করেছেন”।

সোমবার ১২ ঘন্টার বনধ্ ডাকেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশ জানিয়েছে, এদিন উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা এবং রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বারেবারে ভাটপাড়া এবং কাঁকিনাড়া এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস।

Post a Comment

0 Comments